কোরবানির ঈদের পর থেকেই চারপাশে যেন বিয়ের আমেজ শুরু হয়ে যায়। পরিবারে পরিবারে বিয়ের আলোচনা, আয়োজন আর নতুন সম্পর্কের ধুম পড়ে যায়। এমন সময় শুধু বিয়ের আনন্দই নয়, ইসলাম যাদের সঙ্গে বিয়ে বৈধ করেছে আর যাদের সঙ্গে বিয়ে হারাম করেছে, সে বিষয়েও আমাদের পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।
ইসলাম মানুষকে উচ্ছৃঙ্খল ও স্বেচ্ছাচারী জীবন থেকে রক্ষা করতে বিয়েকে গুরুত্ব দিয়েছে। বিয়ের মাধ্যমে মানুষ পায় শান্তি, ভালোবাসা ও পারিবারিক স্থিতি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও মায়া সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা রুম, আয়াত : ২১)
আরও বলেন, ‘তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিতদের বিয়ে করিয়ে দাও… তারা দরিদ্র হলেও আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন।’ (সুরা নূূর, আয়াত : ৩২)
তবে ইসলাম বিয়ের ক্ষেত্রে কিছু সীমারেখাও নির্ধারণ করেছে। কিছু সম্পর্ক আছে, যাদের সঙ্গে বিয়ে চিরতরে হারাম। আবার কিছু সম্পর্ক আছে, যাদের সঙ্গে একসঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক রাখা নিষিদ্ধ।
সহজভাবে যেসব নারীকে বিয়ে করা যাবে না, তারা হলেন—
মা, দাদি, নানি ও ঊর্ধ্বতন নারীরা
সৎমা (বাবার স্ত্রী)
নিজের মেয়ে, নাতনি ও তাদের পরবর্তী প্রজন্ম
আপন বোন, সৎবোন
ফুফু ও খালাভাতিজি ও ভাগ্নিশাশুড়ি, স্ত্রীর মেয়ে (নির্দিষ্ট শর্তে)
ছেলের স্ত্রীদুধ সম্পর্কের মা, বোন, মেয়ে ও অন্যান্য নিকট আত্মীয়
একই সময়ে স্ত্রীর বোন, খালা বা ফুফুকে স্ত্রী হিসেবে রাখা
ইসলামে দুধ সম্পর্ককেও রক্তসম্পর্কের মতো গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই দুধ মা, দুধ বোন বা দুধ সম্পর্কের অন্যান্য আত্মীয়দের সঙ্গেও বিয়ে বৈধ নয়।
পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ২২-২৪ নম্বর আয়াতে এসব নিষিদ্ধ সম্পর্কের বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।
বিয়ে শুধু সামাজিক বন্ধন নয়; এটি ইবাদত, দায়িত্ব এবং পবিত্র সম্পর্ক। তাই বিয়ের আগে ইসলামের বিধান সম্পর্কে জানা ও সচেতন থাকা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
/এসএকে