সাতক্ষীরায় কালবৈশাখীর তাণ্ডবে শিশুর মৃত্যু, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সারাদেশ

সাতক্ষীরায় আঘাত হানা আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে উপকূলীয় এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে। ঝড়ে তালগাছ ভেঙে পড়ে শারমিন (৯) নামে এক শিশুর

2026-05-30T19:12:21+00:00
2026-05-30T19:12:21+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
সাতক্ষীরায় কালবৈশাখীর তাণ্ডবে শিশুর মৃত্যু, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৭:১২ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
সাতক্ষীরায় আঘাত হানা আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে উপকূলীয় এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে। ঝড়ে তালগাছ ভেঙে পড়ে শারমিন (৯) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ঘরবাড়ি ও বৈদ্যুতিক লাইনের।
 
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া বিদ্যুৎ শনিবারও (৩০ মে) সচল না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ২০ হাজারেরও বেশি গ্রাহক। একই সাথে ঝড়ে গাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আম ঝরে পড়ায় শত কোটি টাকার লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন জেলার আমচাষিরা।

শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামে ঝড় শুরু হলে বাড়ির পাশে খেলার সময় একটি বড় তালগাছ ভেঙে পড়ে ৯ বছরের শিশু শারমিনের ওপর। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জিয়াউর রহমান তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শারমিন ওই গ্রামের আব্দুর রউফের মেয়ে। 

এছাড়া কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে জেলার উপকূলীয় গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নং সোরা এলাকায় বেশ কয়েকটি পরিবারের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। গাবুরার বাসিন্দা আশরাফুল ও মোকছেদ গাজী জানান, মুহূর্তের মধ্যে তাদের ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এখন দিন কাটাচ্ছে খোলা আকাশের নিচে।  

এদিকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকা এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে শনিবার (৩০ মে) ‘শ্যামনগরবাসী’র ব্যানারে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২-১৩ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে লোডশেডিং চলছে। সবচেয়ে বড় বিষয়, এই চরম দুর্ভোগের সময়েও পল্লী বিদ্যুতের স্থানীয় ডিজিএম বা এজিএমদের সরকারি নম্বরে ফোন করা হলে তারা ফোন ধরছেন না। 

সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (কারিগরী) মো. মনির হোসেন বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে ১১টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে এবং ৩৬টি খুঁটি হেলে গেছে। এছাড়া ১৯২টি স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে, ২৭টি ক্রসআর্ম ভেঙেছে এবং অন্তত ২৩০ জন গ্রাহকের মিটার নষ্ট হয়েছে। জেলাজুড়ে প্রায় ২৭৫টি স্পটে লাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়েছে। এতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সাড়ে ৬ লাখ গ্রাহকের মধ্যে এখনও ২০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন আছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শনিবার (৩০ মে) সকাল থেকে নতুন টিম গঠন করে মেরামত কাজ চালানো হচ্ছে।

শুক্রবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে হঠাৎ শুরু হওয়া কালবৈশাখির তাণ্ডবে গাছ থেকে ঝরে পড়ে বিপুল পরিমাণ আম। চলতি মৌসুমে জেলা থেকে প্রায় পাঁচশ কোটি টাকার আম বেচাকেনার আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে আম চাষীদের সেই আশা নিরাশায় পরিণত হতে চলেছে।


সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর এলাকার আমচাষি মোখলেসুর রহমান জানান, তার ৩০টির মতো আমবাগান রয়েছে। এসব বাগানের হিমসাগর আম এখনো পুরোপুরি পাড়া শেষ হয়নি। এছাড়া ২৭ মে থেকে ল্যাংড়া আম পাড়ার কথা থাকলেও ঈদের কারণে তিনি তা পাড়তে পারেননি। এরই মধ্যে শুক্রবার বিকালের ঝড়ে তার বাগানের হিমসাগর ও ল্যাংড়া আম ব্যাপকভাবে ঝরে পড়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, সাতক্ষীরা জেলায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার আম বাগান রয়েছে। চলতি বছর এখান থেকে ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ১০০ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫শ কোটি টাকা। তবে আকস্মিক এই ঝড়ের কারণে চাষীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন। 

সময়ের আলো/জেডি 




  বিষয়:   সাতক্ষীরা  কালবৈশাখীর তাণ্ডব  শিশুর মৃত্যু  ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: