হজ— একটি আত্মিক সফর, যা মানুষকে দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে সরিয়ে আল্লাহর ঘরের সামনে দাঁড় করায়। এটি কেবল একটি ধর্মীয় বিধান নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য, ত্যাগ ও গভীর অনুশোচনার এক অনন্য অভিজ্ঞতা। মক্কা, কাবা, আরাফা, মিনা ও মুজদালিফার প্রতিটি স্থান একজন মুমিনের হৃদয়ে নতুন করে ঈমানের আলো জ্বালিয়ে দেয়।
হজ শেষে মক্কা ত্যাগের অনুভূতি নিয়ে যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা নৌশিন তাসনিম জারা প্রধান বলেন, জীবনের সবচেয়ে পবিত্র, আবেগময় ও স্মরণীয় কিছু মুহূর্ত কাটিয়ে আজ প্রিয় মক্কা নগরী থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে। এই বিদায়ের ক্ষণে হৃদয় এক অদ্ভুত শূন্যতায় ভরে উঠেছে— মনে হচ্ছে, নিজের খুব আপন কাউকে ছেড়ে চলে যাচ্ছি।
প্রথমবার কাবাঘর দেখার অনুভূতি নিয়ে জারা বলেন, ‘প্রথমবার কাবাঘর দেখার অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। কাবার সামনে দাঁড়িয়ে করা প্রতিটি দোয়া, সেজদায় ঝরে পড়া অশ্রু, আর রাতের নিঃশব্দ প্রার্থনার প্রতিটি মুহূর্ত হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।
হজের প্রতিটি ধাপ যেন নিজেকে নতুন করে চেনার সুযোগ করে দিয়েছে। আরাফার ময়দানে গুনাহের স্মরণে কান্না, মিনায় আল্লাহর রহমতের অনুভব, আর মুজদালিফার খোলা আকাশের নিচে মানুষের অসহায়ত্ব ও রবের মহিমা গভীরভাবে উপলব্ধি হয়েছে।
বিদায়ের মুহূর্তে তিনি প্রার্থনা করেন— হে আল্লাহ, এই হজ কবুল করুন, গুনাহ মাফ করুন এবং আবারও আপনার ঘরের মেহমান হওয়ার তাওফিক দিন। জারা বলেন, ‘ মক্কা ছেড়ে যাওয়া যায়, কিন্তু মক্কাকে হৃদয় থেকে কখনোই সরানো যায় না।’
/এসএকে