দক্ষিণ লেবাননে সংঘাত নতুন মাত্রা পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে। ইসরায়েলি বাহিনী লিতানি নদী অতিক্রম করে উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ শহর নাবাতিয়েহকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাপক বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ এবং স্থানত্যাগের নির্দেশে অঞ্চলজুড়ে মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা নাবাতিয়েহ অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার পথে একাধিক শহর ও গ্রামকে লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে। চৌকিন এলাকার উপকণ্ঠে পৌঁছে তারা বাসিন্দাদের দ্রুত এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সময় লিতানি নদীর সমান্তরাল পাহাড়ি অঞ্চল ধরে সামরিক অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে সেনারা।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বিমান হামলা, ড্রোন আক্রমণ এবং কামান নিক্ষেপের ঘটনা বেড়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী অঞ্চলটিকে কার্যত যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করে বাসিন্দাদের আরও উত্তরে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এর ফলে ইতোমধ্যে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা কয়েক লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা।
আরও পড়ুন
শনিবার নাবাতিয়েহ শহরের আশপাশে পরিচালিত হামলায় স্বাস্থ্যকর্মীসহ অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হামলার জবাবে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে রকেট হামলা চালানোর দাবি করেছে। কিরিয়াত শমোনা এলাকার একটি বাণিজ্যিক স্থাপনায় রকেট আঘাত হানার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।
সংঘাতের কারণে সীমান্তবর্তী বহু গ্রামের বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার দাবি থাকলেও সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলায় সীমান্ত পরিস্থিতি আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে।
সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বোফোর্ট দুর্গের আশপাশের এলাকাও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই পাহাড়ি অবস্থান নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লিতানি নদীর উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত অগ্রসর হওয়ার কথা উল্লেখ করেছিলেন।
অন্যদিকে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় লেবানিজ সেনাসহ বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এক যৌথ বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, অবকাঠামো, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে চালানো হামলা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
লেবাননের শীর্ষ নেতৃত্বের মতে, চলমান আক্রমণে শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তু নয়, বরং পুরো জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়ছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করছে।
এদিকে সংঘাত প্রশমনে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে ইসরাইল ও লেবাননের প্রতিরক্ষা প্রতিনিধিদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সীমান্ত উত্তেজনা কমানো, সম্ভাব্য শান্তি কাঠামো এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বৈঠক থেকে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসেনি।
এএডি/