পরীক্ষামূলকভাবে আঙুর চাষ করে সফল হয়েছেন মাগুরার শালিখা উপজেলার পিপরুল গ্রামের কৃষক জামাল মণ্ডল। তার এই সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার অন্য কৃষকেরাও এখন আঙুর চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
উপজেলার ধনেশ্বরগাতী ইউনিয়নের পিপরুল গ্রামে জামাল মন্ডল তার বাড়ির পাশে ২০ শতাংশ জমিতে মালটা, লেবু, ডালিম, ননিফল, বরই ও এলাচের পাশাপাশি আঙুরের চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার বাগানের লতানো গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে রসালো আঙুর। বাগানটিতে লাল চয়ন, বাইক্লো, জিএস থ্রি ও জাম্বুরা— এই চার জাতের প্রায় ৬০টি গাছ রয়েছে।
কৃষক জামাল মণ্ডল জানান, ভারত এবং যশোরের খাজুরা ও লেবুতলা থেকে চারা সংগ্রহ করে তিনি এই বাগান শুরু করেছিলেন। প্রথম মৌসুমে আশানুরূপ ফলন পাওয়ায় এবার তিনি বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করেছেন। বর্তমানে প্রতিটি গাছে গড়ে প্রায় ৪০ কেজি করে আঙুর এসেছে। স্থানীয় বাজারে এই আঙুর প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর তিনি প্রায় এক লাখ টাকার আঙুর বিক্রি করেছিলেন, এবার বিক্রির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন। বছরে এই বাগান থেকে দুই বার ফল সংগ্রহ করা যায়।
তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখতে প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা বাগানে ভিড় করছেন। বাগানের আঙুর খেয়ে অনেকে জানান, বাজার থেকে কেনা বিদেশি আঙুরের চেয়ে এটি অনেক বেশি সুস্বাদু ও মিষ্টি।
জামাল মণ্ডল শুধু নিজেই আঙুর চাষ করছেন না, পাশাপাশি স্থানীয় আগ্রহী কৃষকদের চারা ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছেন। গত বছর তিনি স্থানীয় কৃষকদের মাঝে প্রায় এক হাজার চারা বিতরণ করেছেন।
শালিখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবুল হাসনাত বলেন, ‘কৃষি অফিস থেকে জামাল মন্ডলের আঙুর বাগানটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তার এই উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। দেশের আবহাওয়া ও মাটিতে বিদেশি ফল চাষের এই সফলতা অন্য কৃষকদেরও অনুপ্রাণিত করবে।’