দক্ষিণ লেবাননের ৯০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গ এবং এর চারপাশের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পার্বত্য এলাকা নিজেদের পূর্ণ দখলে নেওয়ার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ‘আইডিএফ’।
রোববার (৩১ মে) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, এই বিশেষ সামরিক অভিযানটি মূলত বিউফোর্ট রিজ এবং ওয়াদি আল-সালুকি এলাকার ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং সেখানে অবস্থানরত ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, বিউফোর্ট দুর্গটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার এই বিশেষ অভিযানে তাদের সেনাবাহিনীর একজন সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে ঐতিহাসিক এই দুর্গটি বেদখল হওয়া কিংবা ইসরায়েলি সেনার মৃত্যুর বিষয়ে লেবানন সরকার বা হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, ৯০০ বছরের পুরোনো ওই লেবাননি দুর্গের চূড়ায় এখন ইসরায়েলি পতাকা উড়ছে।
ইসরায়েলের সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পরও উত্তর ইসরায়েলি সীমান্তে হিজবুল্লাহর তীব্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে গত শনিবার উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে ব্যাপক রকেট হামলা চালানোর পর সেখানকার কয়েকটি এলাকায় স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় বিভিন্ন কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, বিউফোর্ট রিজের এই উঁচু পার্বত্য এলাকাটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে হিজবুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে বহু বড় হামলা পরিচালনা করেছে এবং ওই এলাকা থেকেই শত শত রকেট ও অন্যান্য প্রজেক্টাইল সরাসরি ইসরায়েলের বেসামরিক নাগরিক ও সেনাদলকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছে।
কূটনৈতিক ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিউফোর্ট দুর্গটি পুরোপুরি দখলের ফলে ইসরায়েলি বাহিনী এখন দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এবং উত্তর ইসরায়েলের সীমান্ত এলাকার ওপর একচ্ছত্র কৌশলগত নজরদারির বড় ধরনের সামরিক সুবিধা পেয়েছে।
এ ছাড়া দক্ষিণ লেবাননের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর নাবাতিয়েহর আশপাশের বিভিন্ন এলাকাতেও ইসরায়েলি সেনারা বর্তমানে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করছে বলে সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পুরো অঞ্চলটিকে দীর্ঘকাল ধরে হিজবুল্লাহর অন্যতম প্রধান এবং শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সূত্র: রয়টার্স
সময়ের আলো/টিএইচ