চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুন্ড বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস, মাইক্রোবাস, ড্রাম ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রোববার (৩১ মে) রাত আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটে মহাসড়কের বাড়বকুন্ড বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সূত্রে জানা গেছে, ঢাকামুখী লেনে চলাচলরত একটি মাইক্রোবাস, সৌদিয়া পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস এবং বালুবাহী একটি ড্রাম ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটি সড়কের ওপর উল্টে যায়। এ সময় পাশ দিয়ে যাওয়া একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
চারটি যানবাহনের এ ভয়াবহ সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই বাসের নিচে চাপা পড়ে এক নারী নিহত হন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় জানা যায়নি।
দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়।
সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের কর্মকর্তা সোহাগ জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাস ও অটোরিকশা থেকে অন্তত ১৫ জন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময়ের জন্য ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলো সরিয়ে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হক জানান, দুর্ঘটনায় একজন নারী নিহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতের সংখ্যা বেশি হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
/এসএকে