মিয়ানমারের সংঘাতপীড়িত শান রাজ্যে খনি কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণ আবারও দেশটির খনিজ শিল্পে নিরাপত্তা সংকটের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। বিস্ফোরণে অন্তত ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও অনেকে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের সংখ্যা বিবেচনায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
রোববার (৩১ মে) দুপুরে বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত একটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, খনি ও পাথর উত্তোলন কার্যক্রমে ব্যবহৃত বিস্ফোরক সংরক্ষণের একটি স্থানে শক্তিশালী বিস্ফোরণের পর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
নিহতদের মধ্যে নারী-পুরুষ উভয়ই রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও শব্দ শোনা গেছে এবং অনেকেই প্রথমে এটিকে সামরিক হামলা বলে মনে করেছিলেন।
আরও পড়ুন
এলাকাটির নিয়ন্ত্রণে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠী জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ফলে বহু সাধারণ মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং অসংখ্য ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনার পর উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের খোঁজ চালাচ্ছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণে শুধু প্রাণহানিই নয়, পুরো একটি গ্রামের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বহু পরিবার রাতারাতি আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।
প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, বিস্ফোরণস্থলে বিশালাকার গর্ত তৈরি হয়েছে। আশপাশের স্থাপনা ধসে পড়েছে, গাছপালা উপড়ে গেছে এবং বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন ছড়িয়ে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে খনিজ সম্পদ উত্তোলন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম উৎস হলেও সেখানে নিরাপত্তা মানদণ্ডের ঘাটতি দীর্ঘদিনের সমস্যা। যথাযথ তদারকি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় খনি-সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনা প্রায়ই প্রাণঘাতী রূপ নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে খনি ও বিস্ফোরক ব্যবস্থাপনায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। এদিকে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এএডি/