সিগারেট ছেড়েছেন জিনপিং, তবে চীনাদের ধূমপানের তথ্য বিস্ময়কর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

চীন আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় সিগারেট বাজারে পরিণত হয়েছে- এমন এক বাস্তবতা যেখানে বৈশ্বিক ধূমপান কমলেও দেশটিতে উল্টো চিত্র দেখা

2026-06-01T13:03:18+00:00
2026-06-01T13:03:18+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
সিগারেট ছেড়েছেন জিনপিং, তবে চীনাদের ধূমপানের তথ্য বিস্ময়কর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১:০৩ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
চীন আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় সিগারেট বাজারে পরিণত হয়েছে- এমন এক বাস্তবতা যেখানে বৈশ্বিক ধূমপান কমলেও দেশটিতে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে চীনে সিগারেটের ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ, যেখানে একই সময়ে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে তা কমেছে প্রায় ২৬ শতাংশ।

বিশ্বের মোট সিগারেটের প্রায় অর্ধেকই এখন চীনে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে বিভিন্ন গবেষণা ও পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

চীনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একসময় ধূমপানবিরোধী অবস্থানের কথা বললেও বাস্তবে দেশটির তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতিতে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি। প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় আগে তিনি ধূমপান ছাড়ার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে চীনের রাষ্ট্রীয় তামাক শিল্পের বিশাল অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে নীতিগত সংস্কার কার্যকরভাবে এগোতে পারেনি বলে বিশ্লেষকদের মত।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তামাক খাত থেকে আসা বিপুল রাজস্ব এখন চীনের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই খাত থেকে আসা আয় সরকারি বাজেটের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে, যা অবকাঠামো, ব্যাংকিং এমনকি কৌশলগত খাতেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

অর্থনৈতিক চাপের এই বাস্তবতায় তামাক শিল্পকে হঠাৎ সংকুচিত করা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সরকারগুলোও অনেক ক্ষেত্রে তামাক করের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বলে জানা যায়।

অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য নীতির ক্ষেত্রে চীনের অবস্থান তুলনামূলকভাবে শিথিল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বহু আন্তর্জাতিক তামাক নিয়ন্ত্রণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও কঠোর বিধান বাস্তবায়নে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে।

বিশেষ করে ইনডোর ধূমপান নিষেধাজ্ঞা ও জনসমাগমস্থলে ধূমপান নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলো স্থানীয় পর্যায়ে দুর্বলভাবে কার্যকর হচ্ছে। ফলে শহর ও গ্রামীণ অঞ্চলে ধূমপানের দৃশ্যমানতা এখনো ব্যাপক।

গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণদের মধ্যে ধূমপানের হার কিছুটা কমলেও মোট সিগারেট বিক্রি কমেনি। বরং কম দামের কারণে ভোগ্যপণ্য হিসেবে সিগারেটের ব্যবহার স্থিতিশীল বা ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। চীনে প্রতি প্যাকেট সিগারেটের দাম তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এটি সহজলভ্য রয়ে গেছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে একটি বড় বাধা।

তামাক শিল্পের প্রভাব শুধু অর্থনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়েও তা বিস্তৃত বলে দাবি করা হয়। বহু অঞ্চলে তামাক কর স্থানীয় বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় কঠোর নিয়ন্ত্রণে অনীহা দেখা যায়।

এদিকে ২০২৫ সালের দিকে তামাক খাত থেকে সরকারের বিপুল রাজস্ব আয় আবারও আলোচনায় এসেছে। এই অর্থ শুধু সাধারণ বাজেট নয়, বরং বিভিন্ন কৌশলগত খাতেও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আর্থিক নির্ভরতা চীনের তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতিকে দ্বৈত অবস্থানে ফেলে দিয়েছে- একদিকে জনস্বাস্থ্য রক্ষা, অন্যদিকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা।

জনগণের মধ্যেও ধূমপানবিরোধী সচেতনতা ধীরে ধীরে বাড়ছে। তরুণ প্রজন্মের কিছু অংশ এবং সামাজিক কর্মীরা প্রকাশ্য স্থানে ধূমপান নিয়ন্ত্রণের দাবিতে সোচ্চার হচ্ছেন। তবে নীতি বাস্তবায়ন ও আইন প্রয়োগে দুর্বলতার কারণে এই সামাজিক আন্দোলন এখনও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে ধূমপায়ীর হার কমানোর যে লক্ষ্য চীন নির্ধারণ করেছে, তা অর্জন করা কঠিন হবে যদি নীতিগত ও প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন না আনা হয়।

এএডি/


  বিষয়:   সিগারেট  জিনপিং  চীনা  ধূমপান  তথ্য  বিস্ময়কর 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: