গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় নিহত রুবেল মিয়া (৩০) নামের এক যুবকের মরদেহ একটি বাসের ভেতর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের ইমামগঞ্জ ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসা মাঠে রাখা ‘অসীম পরিবহন’ নামের একটি দূরপাল্লার বাস থেকে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত রুবেল মিয়া কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার সোনারপাড়া এলাকার মৃত মোন্নাফ সোনারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন বাস স্টাফ (পরিবহন শ্রমিক)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা থেকে যাত্রীদের নিয়ে একটি রিজার্ভড বাসে করে সুন্দরগঞ্জ এলাকায় এসেছিলেন রুবেল। রোববার (৩১ মে) দিবাগত গভীর রাতে তিনি তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনের প্রধান সড়কে গেলে একটি অজ্ঞাত গাড়ি তাকে সজোরে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে গভীর রাতেই একই বাসের অন্য সহকর্মীরা সড়ক থেকে তার মরদেহ শনাক্ত করেন। তবে আইনি ঝামেলা এড়াতে কিংবা আতঙ্কে তারা মরদেহটি উদ্ধার করে ইমামগঞ্জ ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসা মাঠে রাখা অসীম পরিবহনের বাসের ভেতর নিয়ে কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখে দেন।
সোমবার (১ জুন) সকালে বাসের ভেতরে মরদেহ পড়ে থাকার খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে চাঞ্চল্য তৈরি হয় এবং ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। খবর পেয়ে সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসের ভেতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে সড়ক দুর্ঘটনায় ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আমরা বাসের ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছি। হাসপাতালের আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে সড়ক পরিবহন আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে। এরপর মরদেহটি তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
ওসি আরও জানান, গভীর রাতে ঠিক কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে এবং ঘাতক গাড়িটিকে শনাক্ত করা যায় কি না— তা জানতে ইতিমধ্যে পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করেছে।
সময়ের আলো/জেডি