ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের ভিটিবিশাড়া গ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত যমুনা খাল খননের নামে কৃষিজমি নষ্ট ও নিয়মবহির্ভূতভাবে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে খালের দুই পাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। সোমবার (১ জুন) দুপুরে ভিটিবিশাড়া গ্রামের খলাঘাট ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘এখানকার সীমিত আবাদি জমির ওপর নির্ভর করেই স্থানীয় কৃষকেরা জীবিকা নির্বাহ করেন। অথচ খাল খননের নামে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে একটি প্রভাবশালী মহল নির্বিচারে মাটি কেটে বিক্রি করে দিচ্ছে। অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার ফলে খালের দুপাশের ফসলি জমি ও ঘরবাড়িতে ভাঙন দেখা দিয়েছে।’
বক্তারা আরও বলেন, ‘আমরাও চাই সরকার জনস্বার্থে খাল খনন করুক, তবে তা হতে হবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে যাতে সাধারণ মানুষের ক্ষতি না হয়। অবিলম্বে এই অনিয়ম বন্ধ করে প্রকল্পের মূল নকশা ও প্রাক্কলন (এস্টিমেট) জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করতে হবে।’ এ সময় তারা উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
লতিফ হোসেন নামে স্থানীয় এক ভুক্তভোগী কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যেখানে খাল ৮ ফুট গভীর করার কথা, সেখানে ২০ ফুট পর্যন্ত গভীর করে মাটি তুলে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে আমাদের শেষ সম্বল আবাদি জমিগুলো ধসে খালের পেটে চলে যাচ্ছে। আমরা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ চাই।’
আরেক ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন অভিযোগ করেন, খনন কাজ শুরুর আগে স্থানীয় অংশীজন বা জমির মালিকদের সাথে কোনো ধরনের মতবিনিময় করা হয়নি। বারবার প্রকল্পের নকশা দেখতে চাওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) খালিদ বিন মনসুর বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। তবে এই খনন কাজ যে সংস্থার অধীনে হচ্ছে, তাদের সাথে কথা বলে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা
সময়ের আলো/জেডি