প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৯:৩২ এএম আপডেট: ০২.০৬.২০২৬ ৯:৪০ এএম
কুমিরের টেনে নিয়ে যাওয়া শিশু ফাতেমা আক্তার। সংগৃহীত ছবি বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের টেনে নিয়ে যাওয়া শিশু ফাতেমা আক্তারের (৭) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিখোঁজের প্রায় ৯ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে দিঘির মহিলা ঘাটের কাছ থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেন মাজারের খাদেম ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা।
এর আগে গতকাল সোমবার (১ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দিঘির পূর্ব পাশের ঘাটে গোসল করতে নামলে ৭ বছর বয়সী ওই শিশুকে পানিতে টেনে নিয়ে যায় একটি কুমির। নিহত ফাতেমা মাজার এলাকায় অবস্থান করা এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর সন্তান বলে জানা গেছে। তবে তার স্থায়ী পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘাট সংলগ্ন দোকানি বিনা জানান, ভোরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর দেখা যায় তার শরীরের বিভিন্ন অংশে কুমিরের কামড়ের ক্ষত ও গভীর দাগ রয়েছে।
মাজার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে ওই ঘাটে বেশ কয়েকজন মানুষের উপস্থিতি ছিল। শিশু ফাতেমা পানিতে নামার সাথে সাথেই একটি কুমির তাকে আকস্মিক আক্রমণ করে গভীর জলের দিকে টেনে নিয়ে যায়। এ সময় উপস্থিত লোকজনের চিৎকারে মাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় বাসিন্দারা নৌকা নিয়ে দিঘিতে তল্লাশি শুরু করেন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের টিমও উদ্ধার অভিযানে যুক্ত হয়। রাতভর যৌথ অভিযানের পর আজ ভোরে মরদেহটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
জানতে চাইলে মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, "ভোরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে আপাতত মহিলা ঘাটে রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও দাফনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
সময়ের আলো/জেডি