প্রায় ১০ বছর আগে জীবিকার প্রয়োজনে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন আরিফ ইসলাম। দীর্ঘদিন পর সোমবার রাতে তার দেশে ফেরার আনন্দে সবাই বিভোর ছিল। কিন্তু, সেই আনন্দ রূপ নিল শোকে। বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলো আরিফ ইসলাম সহ পরিবারের চার সদস্যের।
মঙ্গলবার (২ জুন) ভোররাত পৌনে ৪টার দিকে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, নিহত আরিফ ইসলাম ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকুড়া ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গি গ্রামের বাসিন্দা। সোমবার পরিবারের সদস্যরা তাকে আনতে গিয়েছিলেন বিমানবন্দরে। সেখান থেকে প্রাইভেটকার যোগে যশোরে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা। ভোররাত পৌনে ৪টার দিকে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মালিগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বিকল গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয় প্রাইভেটকারটি। এতে আরিফ ও তার পরিবারের সদস্য ছাড়াও নিহত হন প্রাইভেটকার চালক।
নিহতরা হলেন যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার উজ্জ্বলপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী নুরজাহান (৫০), তার ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী আরিফ ইসলাম (২৪) ও রাকিব (১৮), মেয়ে একই গ্রামের ইলিয়াস হোসেনের স্ত্রী আয়শা বেগম (২৮) এবং চালক জাহিদ (২৫)। আহত হয়েছেন আশরাফুল হোসেন (৭) ও তাছফিয়া (৩)।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তারপর কর্তব্যরত চিকিৎসক রাকিব, নুরজাহান বেগম, আয়েশা বেগম এবং জাহিদকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত আরিফুল ইসলাম, আশরাফুল ও তাছফিয়াকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরিফুল ইসলামের মৃত্যু হয়। আহত দুই শিশু বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
নিহতদের স্বজন ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘যে দিনটি আনন্দের হওয়ার কথা ছিল, সেটিই পরিণত হয়েছে শোকের দিনে।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রাইভেট কারটির গতি অনেক বেশি ছিল। এ ছাড়া চালকের চোখে ঘুমঘুম ভাব থাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ম্যানেজার আবু জাফর জানান, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। তারপর প্রাইভেটকারের যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। এ সময় গাড়িটি ট্রাকের পেছনে আটকে ছিল। পরে প্রাইভেট কারটি আংশিক কেটে চালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। আরিফুল ইসলামের মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকার ও ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
/মহু