পাবনা মানসিক হাসপাতালের দুটি ভবনের নিলাম স্থগিত

পাবনা প্রতিনিধি

সারাদেশ

পাবনা মানসিক হাসপাতাল চত্বরে অবস্থিত ঠাকুর শ্রী শ্রী অনুকূল চন্দ্রের স্মৃতিবিজড়িত ‘বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্র’ ও ‘মাতৃমন্দির’ সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে সৎসঙ্গ বাংলাদেশ।

2026-06-02T23:33:06+00:00
2026-06-02T23:33:06+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
পাবনা মানসিক হাসপাতালের দুটি ভবনের নিলাম স্থগিত
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম 
ছবি : সময়ের আলো
পাবনা মানসিক হাসপাতাল চত্বরে অবস্থিত ঠাকুর শ্রী শ্রী অনুকূল চন্দ্রের স্মৃতিবিজড়িত ‘বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্র’ ও ‘মাতৃমন্দির’ সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে সৎসঙ্গ বাংলাদেশ। সম্প্রতি পাবনা মানসিক হাসপাতালের সম্প্রসারণ এবং আধুনিক ইনস্টিটিউট নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক এই দুটি স্থাপনাসহ কয়েকটি পরিত্যক্ত ভবন নিলামে বিক্রি ও অপসারণের উদ্যোগ নেয় গণপূর্ত বিভাগ। তবে সৎসঙ্গ বাংলাদেশের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আপাতত ওই দুটি ভবনের নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে সৎসঙ্গ বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা পাবনা জেলা প্রশাসক এবং গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিলাম বন্ধের দাবি জানান। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্র ও মাতৃমন্দিরের নিলাম কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় গণপূর্ত বিভাগ।

সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সহ-সাধারণ সম্পাদক সুব্রত আদিত্য জানান, মানবধর্মের প্রচারক শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র ১৮৮৮ সালে পাবনার হিমায়েতপুরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯২৯ সালে সেখানে সৎসঙ্গ আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ ও বিজ্ঞানমনস্ক জীবনধারা গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর মধ্যে তার মায়ের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত ‘মাতৃমন্দির’ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চার জন্য প্রতিষ্ঠিত ‘বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্র’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

তিনি বলেন, ১৯৪৬ সালে ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সপরিবারে ভারতের দেওঘরে চলে যাওয়ার পর আশ্রম-সংলগ্ন অনেক স্থাপনা অযত্নে পড়ে থাকে এবং পরবর্তীতে সেগুলো পাবনা মানসিক হাসপাতাল এলাকার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। বর্তমানে এসব স্থাপনা বিশ্বের কোটি কোটি ভক্ত ও অনুসারীর কাছে অত্যন্ত পবিত্র এবং আবেগঘন তীর্থস্থানের মর্যাদা বহন করে।

সুব্রত আদিত্য আরও বলেন, সম্প্রতি হিমায়েতপুরে মানসিক হাসপাতাল চত্বরে অবস্থিত ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক ও ভগ্নপ্রায় স্থাপনাগুলো টেন্ডার বা নিলামের মাধ্যমে অপসারণের পরিকল্পনার খবর প্রকাশ্যে এলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তারা এসব স্থাপনা ভেঙে না ফেলে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণ ও সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক নিখিল মজুমদার বলেন, সারা বিশ্বে ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের অন্তত ১০ কোটি ভক্ত রয়েছেন। তাদের অনেকেই ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্র পরিদর্শনের জন্য এখানে আসেন। তিনি মনে করেন, স্থাপনাগুলো সৎসঙ্গ বাংলাদেশের মাধ্যমে সংস্কার করে ভক্তদের জন্য উন্মুক্ত করা হলে একদিকে যেমন ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান জানানো হবে, অন্যদিকে বিদেশি ভক্তদের আগমনের মাধ্যমে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করতে পারবে।

সৎসঙ্গ বাংলাদেশের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মানসিক হাসপাতাল এলাকার ভগ্নপ্রায় বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্র ও মাতৃমন্দির সরেজমিন পরিদর্শন করেন গণপূর্ত বিভাগ এবং মানসিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাবনা মানসিক হাসপাতালের পরিচালক ডা. শাফকাত ওয়াহিদ, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ কবির, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে সৎসঙ্গ বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা তাদের বক্তব্য ও দাবি তুলে ধরেন।

ধর্মীয় অনুভূতি এবং স্থাপনাগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় আপাতত নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দেন গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ কবির জানান, পাবনা মানসিক হাসপাতালে বিশ্বমানের আধুনিক ইনস্টিটিউট নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পুরোনো ও পরিত্যক্ত ভবন অপসারণের লক্ষ্যে নিলাম কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছিল। মোট ১৩টি পরিত্যক্ত ভবনের জন্য বুধবার থেকে দরপত্র আহ্বান করার কথা ছিল। এর মধ্যে সৎসঙ্গীদের দাবিকৃত বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্র ও মাতৃমন্দিরও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে আপাতত এই দুটি ভবনের নিলাম স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করায় জেলা প্রশাসন ও গণপূর্ত বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ধৃতব্রত আদিত্য। তিনি বলেন, ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে নিলাম কার্যক্রম বন্ধ করায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাই। একই সঙ্গে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, যাতে এসব প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থাপনার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে সেগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাহলে আগামী প্রজন্ম ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের বিজ্ঞানচেতনা, মানবকল্যাণমূলক দর্শন এবং গৌরবময় ইতিহাস সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা লাভ করতে পারবে। 

তিনি আরও বলেন, সমাজের সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঠাকুরের জন্মভূমিতে সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে চায় সৎসঙ্গ বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন হওয়ায় নিলাম কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। সৎসঙ্গ বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরবিএন 




  বিষয়:   পাবনা  মানসিক হাসপাতাল 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: