একসময় পানি নিষ্কাশনের অভাব, জলাবদ্ধতা আর অপরিকল্পিত খালের কারণে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কৃষকদের কৃষিকাজ ছিল চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে। সময়মতো জমি চাষ করা যেত না, বৃষ্টির পানি জমে থাকায় অনেক ক্ষেতেই ফসল নষ্ট হতো। উৎপাদন কমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাতেন কৃষকরা। তবে এখন সেই চিত্র পাল্টাতে শুরু করেছে।
সরকারের খাল খনন কর্মসূচির আওতায় কচুয়া উপজেলার সহদেবপুর থেকে তুলপাই পর্যন্ত প্রায় ৩.৮ কিলোমিটার খাল খননের কাজ চলমান রয়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলিত খালটি পুনর্খননের ফলে নতুন আশার আলো দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা।
কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার মাসুদ রানা মিয়াজী বলেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই খাল খনন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত নীতিমালা ও বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
কচুয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুল আলীম লিটন বলেন, খাল খননের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থা উন্নত হবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং দেশীয় মাছের চাহিদা পূরণ হবে। তা ছাড়া এসব খাল পুনর্খননের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়বে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও আরও শক্তিশালী হবে।
জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬০ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে খালটি পুনর্খননের উদ্যোগ নিয়েছে। সহদেবপুর, নাংলা, দোজানা, ফতেপুর হয়ে তুলপাই পর্যন্ত প্রায় ৩.৮ কিলোমিটার খনন করা হচ্ছে। এতে খালের দুই পাশের মানুষ ও কৃষকদের উপকার হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।
তাদের মতে, খালটি খনন সম্পন্ন হলে বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে। একই সঙ্গে শুকনো মৌসুমে সেচ ব্যবস্থাও সহজ হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একাধিক কৃষক জানান, আগে জমিতে সময়মতো চাষাবাদ করা সম্ভব হতো না। অতিরিক্ত পানি জমে থাকায় ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হতো। এখন খাল খননের মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান হবে বলে তারা আশাবাদী।
সহদেবপুর গ্রামের আলাউদ্দিন নামের একজন কৃষক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই খাল খননের দাবি জানিয়ে আসছিলাম। এখন কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুবই খুশি। খাল ঠিকভাবে খনন হলে আমাদের ফসল উৎপাদন অনেক বেড়ে যাবে।
/এসএকে