আল্লাহ মানুষকে সুস্থতা এবং অসুস্থতা দিয়ে পরীক্ষা করেন। মানুষের কর্তব্য সুস্থতার সময় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং অসুস্থতার সময় ক্ষমাপ্রার্থনা করা। অনেক সময় বান্দার পাপের ফল হিসেবে নেমে আসে অসুস্থতার শাস্তি।
তবে স্বাভাবিক সময়ে সুস্থতা রক্ষায় কিছু উপায় অবলম্বন করা সুন্নত। নবীজি (সা.) এদিকে বিশেষ নজর দিতেন। সুস্থতার জন্য তিনি নিয়মিত উপকারী খাদ্য গ্রহণ করতেন, সাহাবিদেরও উত্তম খাবারের গুণাগুণ নির্দেশ করতেন। এমন কিছু উপকারী ও ঔষধি খাবারের কথা হাদিসের আলোকে তুলে ধরা হচ্ছে-
আজওয়া খেজুর : হাদিসে আজওয়া খেজুরকে জান্নাতের ফল হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এর উপকারিতা অপরিসীম। আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালবেলা সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন কোনো বিষ ও জাদু তার ক্ষতি করবে না’ (বুখারি, হাদিস : ৫৪৪৫)।
রাসুল (সা.) এক সাহাবিকে হৃদরোগের জন্য আজওয়া খেজুরের তৈরি ওষুধ খেতে পরামর্শ দিয়েছেন। হজরত সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি অসুস্থ হলে রাসুল (সা.) আমাকে দেখতে আসেন। এ সময় তিনি তাঁর হাত আমার বুকের ওপর রাখলে আমি তাঁর শীতলতা আমার হৃদয়ে অনুভব করি।
এরপর তিনি বলেন, তুমি হৃদরোগে আক্রান্ত। কাজেই তুমি সাকিফ গোত্রের অধিবাসী হারিসা ইবনে কালদার কাছে যাও। কেননা সে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক। আর সে যেন মদিনার আজওয়া খেজুরের সাতটা খেজুর নিয়ে বিচিসহ চূর্ণ করে তোমার জন্য তা দিয়ে সাতটি বড়ি তৈরি করে দেয়। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৮৩৫)
জাইতুন তেল : জাইতুন ফলের তেলও মানুষের শরীরের জন্য বেশ উপকারী। রাসুল (সা.) এটা নিজে ব্যবহার করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও ব্যবহার করার তাগিদ দিতেন। হজরত ওমর (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা জাইতুনের তেল খাও এবং তা শরীরে মালিশ করো। কেননা এটি বরকত ও প্রাচুর্যময় গাছের তেল’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৮৫১)।
বিত্র কুরআনে সুরা ত্বিনের প্রথম আয়াতে আল্লাহ এই জাইতুন ফলের কসম করেছেন এবং সুরা নুরের ২৪ নম্বর আয়াতে এই জাইতুন ফলের গাছকে আখ্যা দিয়েছেন বরকতময় গাছ হিসেবে।
মধু : আল্লাহ মধুর মধ্যে বহু রোগের আরোগ্য রেখেছেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তার (মৌমাছির) পেট থেকে নির্গত হয় বিবিধ বর্ণের পানীয়, যাতে মানুষের জন্য রয়েছে আরোগ্য। অবশ্যই তাতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে’ (সুরা নাহল, আয়াত : ৬৮-৬৯)।
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) মিষ্টি ও মধু খুব ভালোবাসতেন’ (বুখারি : ৫২৭০) এবং অন্যদেরও রোগের আরোগ্য লাভে মধু পান করার পরামর্শ দিতেন। একবার এক সাহাবি এসে তাঁর ভাইয়ের পেটের অসুখের কথা বললে রাসুল (সা.) তাকে মধু পান করানোর পরামর্শ দেন এবং এতে সে সুস্থ হয়ে ওঠে। (বুখারি, হাদিস : ৫৩৬০)
কালিজিরা : কালো বর্ণের ক্ষুদ্র দানা। আল্লাহর রাসুল (সা.) এই দানার উপকারিতা বর্ণনা করেছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন- ‘কালিজিরায় সব ধরনের রোগের উপশম আছে, তবে ‘আসসাম’ (অর্থাৎ মৃত্যু) ব্যতীত। (মুসলিম, হাদিস : ৫৬৫৯)
/এসএকে