সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বসন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৩ জুন) রাত ২টার দিকে কালিগঞ্জের বাঁশঝাড়িয়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে কালিন্দী নদী সাঁতরে বাংলাদেশে ফেরার সময় বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা অস্বীকার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
আহতরা হলেন কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের শীতলপুর গ্রামের মো. গোলাম রব্বানীর ছেলে মো. মহিউদ্দিন (৪০) এবং একই গ্রামের মৃত ফজের আলী সরদারের ছেলে মো. শাহিন (২৮)।
স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, প্রায় এক বছর আগে মহিউদ্দিন ও শাহিন অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে কলকাতা হয়ে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে যান। সেখানে তারা রাজমিস্ত্রির শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বুধবার রাত ২টার দিকে বাঁশঝাড়িয়া এলাকায় কালিন্দী নদী পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে দুজনই গুলিবিদ্ধ হন।
পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে ভোররাত পৌনে ৬টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সুজায়েত হোসেন বলেন, ভোররাত পৌনে ৬টার দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসার সময় তারা বিএসএফের গুলির শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহতদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের সাতক্ষীরায় পাঠানো হয়েছে।
তবে ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে বিজিবি। সাতক্ষীরার নীলডুমুরে অবস্থিত বিজিবি-১৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহরিয়ার রাজিব সীমান্তে গুলিবর্ষণের ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, গত রাতে উপ-অধিনায়ককে সঙ্গে নিয়ে আমি নিজেই বাঁশঝাড়িয়া ও শুইলপুরসহ সীমান্ত এলাকায় ছিলাম। আমাদের ব্যাটালিয়নের আওতাধীন কোনো সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের বক্তব্যে সীমান্তে গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠে এলেও বিজিবির অস্বীকৃতির কারণে ঘটনাটি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বিষয়টির প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে স্থানীয়রা।
আরবিএন