রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে লঞ্চ চলাচলের অভিযোগ উঠেছে। ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপ বাড়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই লঞ্চে পারাপার হচ্ছেন যাত্রীরা। যদিও অতিরিক্ত যাত্রী বহন নিষিদ্ধ, তবুও একাধিক লঞ্চে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে। এ পরিস্থিতিতে নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সংশ্লিষ্টদের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যাত্রীরা।
মঙ্গলবার (৩ জুন) দুপুরে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন লঞ্চে ধারণক্ষমতার চেয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছে। এমভি আরাফাত লঞ্চের ধারণক্ষমতা ১৩০ জন হলেও এতে ২০০ জনের বেশি যাত্রী ছিল। এমভি ব্ল্যাকবার্ড লঞ্চে ১২১ জনের স্থলে প্রায় ১৮০ জন এবং এমভি তিতাস লঞ্চে ১৪৮ জনের বিপরীতে প্রায় ১৬০ জন যাত্রী নিয়ে পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যেতে দেখা যায়।
ঘাট এলাকায় লঞ্চের ভেতর ও ডেকে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কর্মস্থলে দ্রুত ফিরতে অনেক যাত্রী ঝুঁকি নিয়েই নদী পারাপার করছেন বলে অভিযোগ করেন।
পাটুরিয়াগামী যাত্রী আরিফুল ইসলাম বলেন, লঞ্চের ডেক ও নিচতলায় গাদাগাদি করে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। বর্তমান আবহাওয়ায় ঝড়ের আশঙ্কাও রয়েছে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় কে নেবে?
আরেক যাত্রী রইচ উদ্দিন বলেন, লঞ্চে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জামও চোখে পড়েনি। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলাচল করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করার নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে তার কার্যকর প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না। তারা নৌরুটে তদারকি ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর আরিচা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন বলেন, লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কোনো সুযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘাটে বিআইডব্লিউটিএর টিম নিয়মিত তদারকি করছে।
নৌপুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজিদ হোসেন বলেন, লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা কাজ করছে।
আরবিএন