লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েল পুনরায় বোমাবর্ষণ করলে তা আর কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং এর জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বৈরুতে যেকোনো ধরনের হামলা মানেই হবে সদ্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে সম্পূর্ণভাবে লঙ্ঘন করা।
আরব গণমাধ্যম ‘আল মায়াদিন’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, আমরা মার্কিন পক্ষকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি, বৈরুতে হামলা চালানো হলে ইরান কোনো অবস্থাতেই তা মুখ বুজে সহ্য করবে না। আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই ধরনের পদক্ষেপের অর্থ হবে যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি পুরোপুরি ভেঙে গেছে এবং এর বিপরীতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী পাল্টা জবাব দেবে।
ইসরায়েল যদি আবারও বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে (দাহিয়েহ) হামলা চালায়, তবে ইরান সেখানে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সব সময়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। যদি যুদ্ধবিরতি নীতি লঙ্ঘন করা হয়, তবে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করতে এক মুহূর্তও দ্বিধা করবে না।
ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র-মধ্যস্থতাকারী দলের উপস্থিতিতে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে দীর্ঘ ৯ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠকের পর যখন একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে, ঠিক তখনই ইরানের পক্ষ থেকে এই চরম হুঁশিয়ারি এল। চুক্তি অনুযায়ী, হিজবুল্লাহকে ইসরায়েলের দিকে রকেট হামলা বন্ধ করতে হবে এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে তাদের যোদ্ধাদের প্রত্যাহার করতে হবে।
তবে এই কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত আটজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন, লেবানন ও ইরানের ভাগ্য একই সুতোয় গাঁথা এবং বৈরুতের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এই যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হবে।
/কহু