যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবানন যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মত হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবাননের মারজায়ুনে এক ভয়াবহ মর্টার হামলায় জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিরক্ষী বাহিনী বা ইউনিফিলের এক শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন।
বুধবার (৩ জুন) রাতে ঘটা এই মর্টার হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর বৈরুতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জাতিসংঘের মিশন এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জাতিসংঘের মিশন থেকে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে নিহত শান্তিরক্ষীর নির্দিষ্ট জাতীয়তা কিংবা এই হামলার জন্য প্রকৃত পক্ষে কোন পক্ষ দায়ী, তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে এই একই মর্টার হামলায় আরও দুজন ইউনিফিল শান্তিরক্ষী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
শান্তিরক্ষী বাহিনী স্পষ্ট করেছে যে এই মর্মান্তিক ঘটনার সঠিক পরিস্থিতি ও কারণ নিরূপণের জন্য তারা ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে। মিশনটি উদ্বেগের সঙ্গে বলেছে, ইউনিফিল দক্ষিণ লেবাননে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক গোলার গতিপথ ও তার ক্ষতিকর প্রভাব শনাক্ত করেছে এবং এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় চলমান সহিংসতার অবিলম্বে অবসান ঘটাতে হবে।
কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন মতে, কাগজে-কলমে তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হওয়ার পরও মাঠপর্যায়ে এখনও সংঘাত বন্ধ হয়নি, বরং দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বিমান ও স্থল হামলা অব্যাহত রয়েছে। এর জবাবে হিজবুল্লাহও সকালের দিকে ইসরাইলি সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে দফায় দফায় রকেট হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে।
এর মাঝেই দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহরের দক্ষিণে জেফতা রোডে একটি যাত্রীবাহী গাড়ি লক্ষ্য করে হওয়া হামলায় একই পরিবারের একজন পুরুষ, তার স্ত্রী ও মেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন এবং নাবাতিয়েহ জেলাতেও একটি বড় গোলচত্বরে হওয়া হামলায় বেশ কিছু বেসামরিক লোক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে বুধবার ওয়াশিংটনে ত্রিপক্ষীয় এক বৈঠকে দেশ দুটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছালেও এর স্থায়িত্ব নিয়ে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হওয়া ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হওয়া এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে গোষ্ঠীটির সব সদস্যকে সরিয়ে নেওয়ার ওপর নির্ভর করছে।
এছাড়া দুই দেশ কিছু ‘পাইলট জোন’ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে একমত হয়েছে, যা লেবানিজ সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন হিজবুল্লাহ এই চুক্তি মানবে না, অন্যদিকে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজও ঘোষণা করেছেন যে ইসরাইলি সেনারা সদ্য দখলকৃত প্রাচীন বিউফোর্ট দুর্গ ছাড়বে না এবং হিজবুল্লাহ সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত বাস্তুচ্যুত লেবানিজরা তাদের ঘরে ফিরতে পারবেন না।
সূত্র: আল জাজিরা
সময়ের আলো/টিএইচ