চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানাধীন চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের মামলায় দুই সপ্তাহের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ। অভিযোগপত্রে দেওয়া একমাত্র আসামি মনির হোসেন। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশান দোকানের কর্মচারী।
শিশু ধর্ষণের ঘটনায় গত ২১ মে বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশের সাথে এলাকাবাসীর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বাকলিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটার আবু জাফর রোড এলাকা। অভিযুক্ত যুবককে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে সড়কে অবস্থান নেয়। পুলিশের গাড়ি আটকে দেয়া হয় এবং পরে পুলিশের একটি ভ্যানে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। টানা ছয় ঘণ্টা একটি ভবনে অবরুদ্ধ রাখার পর রাত ১১ টার দিকে এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে কৌশলে বাকলিয়া থানায় নেওয়া হয়।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, বাকলিয়ার আলোচিত শিশু ধর্ষণ মামলায় তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র বৃহস্পতিবার আদালতে দাখিল করা হয়েছে। মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেন। এই মামলার পরবর্তী তদন্ত কাজও অব্যাহত আছে।
পুলিশ জানায়, ২১ মে ঘটনার সূত্রপাত হয় চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর। ওই দিন বিকালে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে যৌন নিপীড়নের শিকার বলে সন্দেহ করেন স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা। পরে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকাল ৫টার দিকে ক্ষুব্ধ লোকজন রাস্তায় নেমে আসেন।
ঘেরাও করা হয় বিসমিল্লাহ ম্যানশান নামে একটি ভবন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। তবে এই ঘটনার জেরে ওই দিন দিবাগত মধ্যরাত পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় পুলিশের সাথে। পুলিশ ওই সময় জানায় সংঘর্ষ উসকে দিয়েছিল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের কর্মীরা। এ ঘটনার পর পুলিশের দায়ের করা মামলার আসামি হিসেবে নিষিদ্ধ সংগঠনের অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
সময়ের আলো/আআ