ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি স্থাপনে ওয়াশিংটনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই এবং দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বাইরে স্থানান্তরেরও কোনো প্রয়োজন দেখছেন না বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওভালের হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরানের ভূগর্ভে সমাহিত (এন্টম্বড) থাকা ইউরেনিয়াম অপসারণে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহার করার কোনো ইচ্ছা তার নেই।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য তার আগের অবস্থান থেকে কিছুটা ভিন্ন। এর আগে তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেছিলেন, ইরানকে কোনোভাবেই উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ রাখতে দেওয়া হবে না। এমনকি চলমান মার্কিন-ইরান শান্তি আলোচনায় এই মজুদ সম্পূর্ণ অপসারণ বা ধ্বংস করাকে অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।
তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, দুই দেশের মধ্যে একটি টেকসই চুক্তি সম্পন্ন হলে তিনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে বৈঠক করতে ‘সম্মানিত’ বোধ করবেন।
সাক্ষাতের সম্ভাবনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি নিজে থেকে বৈঠক করতে চাচ্ছি না। তবে যদি আমাদের বৈঠক হয়, তবে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আমি সম্মানিত বোধ করব। আমি দেখতে চাই আমাদের মধ্যে কোনো চুক্তি হয় কিনা। চুক্তি হলে তার সঙ্গে দেখা করার একটি সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ৫৪ বছর বয়সী ছেলে মোজতবা খামেনি দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন।
মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় মোজতবা খামেনির পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আমরা তার বাবা, স্ত্রী এবং ছেলেকে হত্যা করেছি, তাই আমি নিশ্চিতভাবেই তার প্রিয় কোনো ব্যক্তি নই। তবে কিছু মহলে তার বেশ ভালো সুনাম রয়েছে এবং আমি আশা করি তিনি একজন পেশাদারের মতো আচরণ করবেন।
সম্ভাব্য এই বৈঠকটি কোথায় অনুষ্ঠিত হতে পারে— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, এই বিষয়ে তিনি এখনও বিস্তারিত কিছু শোনেননি। এটি তার নিজের প্রস্তাব নয়, বরং অন্য কিছু পক্ষ থেকে এমন বৈঠকের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইউরেনিয়াম ইস্যুতে নিজের অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ট্রাম্প আরও বলেন, আমরা চাইলে এখনই ইউরেনিয়াম নিয়ে আসতে পারি। আমরা যদি সত্যিই তা চাই, আমার মনে হয় না তারা আমাদের আটকাতে পারবে। তবে এর কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ তা মাটির নিচে পুরোপুরি সিলগালা অবস্থায় রয়েছে।
/কহু