বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে টাকা চেয়ে না পেয়ে চলন্ত মোটরসাইকেলে হামলা চালিয়ে সার্জিক্যাল ব্লেড দিয়ে কুপিয়ে সুব্রত মহন্ত (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রাণে বেঁচে গেলেও তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ১৭২টি সেলাই দিতে হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে তিনি হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার আদমদীঘি থানায় সুব্রতের মা অঞ্জলী রানী বাদী হয়ে প্রতিবেশী মৃত গোপাল চন্দ্র সরকারের ছেলে মিঠু সরকার (৪০) এবং মৃত বিকম সরকারের ছেলে প্রসেনজিৎ সরকারের (৩৭) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের কলসা রথবাড়ী এলাকার বাসিন্দা সুব্রত মহন্তের হবির মোড়ে একটি ওয়ার্কশপ রয়েছে। অভিযুক্ত মিঠু সরকার ও প্রসেনজিৎ সরকার তার প্রতিবেশী। বিভিন্ন সময়ে তারা সুব্রতের কাছ থেকে টাকা ধার নিতেন।
গত সোমবার সান্তাহার পুরাতন বাজারে সুব্রতের সঙ্গে মিঠু সরকারের দেখা হলে তিনি ৫০০ টাকা চান। সুব্রত টাকা নেই বলে জানালে মিঠু তার মোটরসাইকেলের পুরো সিট সার্জিক্যাল ব্লেড দিয়ে কেটে দ্রুত চলে যান। বিষয়টি বাড়িতে জানাতে গেলে মিঠুর সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি এবং প্রসেনজিতের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়।
পরদিন মঙ্গলবার সকালে সুব্রত ওয়ার্কশপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। বাড়ি থেকে প্রায় ১০ মিটার দূরে পৌঁছালে প্রসেনজিতের নির্দেশে মিঠু চলন্ত মোটরসাইকেলের ওপর তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সার্জিক্যাল ব্লেড দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ১৭২টি সেলাই দেওয়া হয়।
সুব্রত মহন্তের মা অঞ্জলী রানী অভিযোগ করেন, মিঠু ও প্রসেনজিৎ কারাগারে থাকলেও তাদের মা, স্ত্রী ও বোন এখনো তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন।
প্রতিবেশী নিলিমা বলেন, মিঠু ও প্রসেনজিতের অত্যাচার বেড়ে গেছে। মিঠু এলাকায় নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। সে চিহ্নিত অপরাধী। জেলে গেলেও কয়েকদিন পরই ছাড়া পেয়ে যায়। এবার আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফরিদ হোসেন বলেন, ঘটনার পরপরই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে মিঠু ও প্রসেনজিৎ দুজনই কারাগারে রয়েছে। তবে আহত সুব্রতের পরিবারকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি আমাদের জানা নেই।
আরবিএন