উচ্চ মূল্যে টিকিট, যাতায়াত ও আবাসন খরচ নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের ক্ষোভ ছিল আগে থেকেই। এর ওপর নতুন করে যুক্ত হয়েছিল খাওয়ার পানি নিয়েও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার ‘ব্যবসায়িক মনোভাব’।
২০২৬ বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামগুলোতে দর্শকদের যে-কোনো ধরনের পানির বোতল বহনে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তীব্র নিন্দার মুখে পড়েছিল সংস্থাটি। তবে সমর্থক গোষ্ঠী এবং শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের কড়া সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান থেকে আংশিক সরে আসতে বাধ্য হয়েছে ফিফা।
শুক্রবার (৫ জুন) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ফিফা তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে দর্শকরা একটি করে নরম প্লাস্টিকের বোতল সঙ্গে নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন।
তবে শর্ত থাকে যে, বোতলটির ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ২০ আউন্স (৫৯০ মিলিলিটার) হতে হবে এবং সেটি নির্ধারিত কারখানায় সিল করা ও একবার ব্যবহারযোগ্য (ওয়ান-টাইম) হতে হবে।
এর আগে ফিফা খেলোয়াড় ও মাঠের নিরাপত্তার অজুহাতে বিশ্বকাপের ১৬টি ভেন্যুতেই দর্শকদের পানির বোতল নিয়ে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছিল। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে সেই ঝুঁকির কথা আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়ে ফিফা জানিয়েছে, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার স্বার্থে দর্শকদের শক্ত আবরণযুক্ত বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য (রিইউজেবল) কোনো পানির বোতল স্টেডিয়ামে আনার অনুমতি দেওয়া হবে না।
১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপের সময় উত্তর আমেরিকার বেশিরভাগ শহরের তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তারও বেশি থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। এমন তীব্র দাবদাহের মধ্যে পানি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে ‘টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কৌশল’ হিসেবে আখ্যা দেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ফিফার আগের সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ ‘ভুল’ ও ‘অর্থ উপার্জনের ধান্দা’ বলে তীব্র সমালোচনা করেন। একই সুরে ক্ষোভ প্রকাশ করে টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চোউ বলেন, ‘এটি নিছক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জঘন্য কৌশল। ফিফা এমনিতেই শত শত কোটি ডলার আয় করছে, এরপরও তাদের লোভ কমছে না। ঘরে থেকে পানি নিয়ে যেতে পারলে বাড়তি খরচ বাঁচে এবং পরিবেশও ভালো থাকে। এই অর্থলোভী মানসিকতা বন্ধ হওয়া উচিত।’
অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি জনপ্রিয় ক্রীড়ামাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-কে বলেন, ‘তীব্র গরমের মধ্যে পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ছিল। কারণ এই ভয়াবহ তাপমাত্রার মুখোমুখি শুধু খেলোয়াড়রাই নন, গ্যালারিতে থাকা সাধারণ দর্শকরাও হবেন।’
ইংল্যান্ডভিত্তিক ফুটবল সমর্থকদের সংগঠন ‘ফ্রি লায়ন্স’ এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানায়, সাধারণ সমর্থকদের কাছে প্রথম থেকেই মনে হয়েছে এটি ফিফার অর্থ উপার্জনের আরেকটি নোংরা কৌশল মাত্র। উল্লেখ্য, স্টেডিয়ামের ভেতরে দর্শকদের পানি, কোমল পানীয় ও জুস সরবরাহের একক একচেটিয়া অধিকার রয়েছে ফিফার দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক স্পন্সর কোকা-কোলার। ফিফার আগের অনড় অবস্থানের কারণে দর্শকদের চড়া দামে স্টেডিয়াম থেকে পানি কিনে খেতে হতো, যা তীব্র সমালোচনার পর অবশেষে আংশিক শিথিল করা হলো।
সময়ের আলো/জেডি