কুমিল্লার চান্দিনায় ডাকাত সন্দেহে দেশীয় অস্ত্রসহ ৫ জনকে আটক করে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয় জনতা।
শনিবার (৬ জুন) সকাল সাড়ে ৬ টায় উপজেলার মাধাইয়া ইউনিয়নের কুটুম্বপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয়রা ডাকাতদের লুণ্ঠিত মালামাল লুটে নেয় এবং তাদের ব্যবহৃত পিকআপও নিয়ে যায়।
আটককৃতরা হলেন- কুমিল্লার বাঙ্গরা থানার টনকি গ্রামের বাসিন্দা মো. ফারুক মিয়া (৩৯), বাহাদুর (২৬), একই থানার কাশিমপুর গ্রামের বাসিন্দা মনির হোসেন (২৬), থোল্লা গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম (৩০) এবং চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানার দক্ষিণ সাহেবগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা মোহন ব্যাপারী (৩৮)।
অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কিছু সুযোগসন্ধানী মানুষ ডাকাতদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন এবং পিকআপ ভ্যান নিয়ে গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডাকাতি শেষে একটি পিকআপ ভ্যানে করে পালিয়ে যাচ্ছিল ডাকাত দল। সকালের দিকে চান্দিনা উপজেলার গল্লাই ইউনিয়নের কালিয়ারচর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয় বেপরোয়া গতির ওই পিকআপটি। দুর্ঘটনার পর অটোরিকশার আরোহীরা বিষয়টি মোবাইল ফোনে তাৎক্ষণিকভাবে কুটুম্বপুর গ্রামের বাসিন্দাদের জানান। খবর পেয়ে কুটুম্বপুর শীল বাড়ি এলাকায় সড়কে ওঁত পেতে থাকে স্থানীয়রা। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পিকআপটি ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় ব্যারিকেড দিয়ে সেটিকে আটকায় স্থানীয় জনতা। এ সময় পাঁচজনকে ধরে ফেলা হলেও বাকিরা পালিয়ে যায়। আটকদের কাছ থেকে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয় এবং উত্তেজিত জনতা তাদের বেধড়ক মারধর করে। পরে খবর পেয়ে চান্দিনা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং অস্ত্রসহ পাঁচজনকে থানায় নিয়ে আসে।
চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মো. আতিকুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে এবং তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের পর জানতে পারি তারা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। তথ্য যাচাই করে জানা যায়, তাদের অনেকের বিরুদ্ধে ডাকাতি, দস্যুতার একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় চান্দিনা থানায় মামলা দায়ের করা হচ্ছে। ডাকাতের কাছ থেকে লুটে নেওয়া মালামাল ও পিকআপ উদ্ধারে চেষ্টা চলছে। সে ব্যাপারেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
/মহু