রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় গ্রেফতারকৃত বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজার জামিন পেয়েছেন।
শনিবার (৬ জুন) বিকেলে তাদের রাজবাড়ীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে আদালতের বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে শুক্রবার (৫ জুন) রাতে দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক(এসআই) আবুজার গিফারী বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় মামলাটি করেন। মামলায় বাসের চালক কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর এলাকার বাসিন্দা ঝন্টু আলী (৪৮), সুপারভাইজার কুষ্টিয়ার সুগ্রীবপুর এলাকার বাসিন্দা আজমল হোসেন (৩৮) ও হেলপার আলামপুর এলাকার বাসিন্দা শাকিব হোসেনের (২২) নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়।
এছাড়াও এসবি সুপার ডিলাক্স (নন-এসি) পরিবহনের (রেজি. নং ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৫৬৪৯) বাস পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাত ব্যক্তিদেরকেও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এজাহারে ফেরির অবকাঠামো ও যাত্রীদের মালামাল মিলিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন শুক্রবার সকালে দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন। সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে মেহেরপুরের গাংনী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের বাসটি ঘাটে পৌঁছায়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার জন্য চালককে নির্দেশ দেন নৌ-পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
নির্দেশনা অনুসারে বাসের প্রায় ৩৭ থেকে ৪০ জন যাত্রী নেমে হেঁটে ফেরির দিকে যেতে থাকেন। এর কিছুক্ষণ পর বাসের চালক ঝন্টু আলী বাসটি স্টার্ট দিয়ে বেপরোয়া ও অবহেলামূলকভাবে চালাতে শুরু করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় পারাপারের জন্য নির্ধারিত ফেরি ‘বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর’-এ বাস না তুলে বাসটি দ্রুতগতিতে পন্টুন অতিক্রম করে সেখানে অবস্থানরত ‘করবী অক্সফ্যাম’ নামের অপর একটি ফেরির ওপর উঠে যায়। পরে ফেরিটির শেষ প্রান্তের র্যাম্পে সজোরে ধাক্কা দিলে র্যাম্পের শিকল ও ছিটকিনি ছিঁড়ে যায় এবং বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
নৌ-পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার আগে সুপারভাইজার ও হেলপার কৌশলে লাফ দিয়ে ফেরিতে নেমে যান। আর চালক নদী থেকে সাঁতরে পন্টুনের কাছে এলে নৌপুলিশ ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
দুর্ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে ডুবে যাওয়া বাসটি নদী থেকে তুলে আনা সম্ভব হয়। পরে বাসটি জব্দ করে নৌপুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং অধিকাংশ গ্লাসসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এজাহারে দাবি করা হয়, দুর্ঘটনায় ‘করবী অক্সফ্যাম’ ফেরির র্যাম্প, ক্যাবল ও শিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি যাত্রীদের ব্যাগ ও মালামালের একটি অংশ পানিতে ভিজে, ডুবে বা হারিয়ে যায়। সবমিলিয়ে আনুমানিক তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, মামলায় এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নৌ-পুলিশ তদন্ত কাজ শুরু করেছে।
রাজবাড়ী কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. মোমিনুল ইসলাম বলেন, বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে আজ আদালতে তোলা হলে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
সময়ের আলো/জেডআই