পৃথক তিনটি নাশকতা মামলায় জামালপুরের ইসলামপুর বিএনপির ৮৪ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সম্প্রতি জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ ও ২-এর বিচারকরা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইসলামপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা পৃথক তিনটি মামলায় এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাগুলোর অভিযোগ গঠনের ধার্য তারিখে বিএনপির নেতা-কর্মীরা আদালতে হাজির না হওয়ায় আসামিপক্ষের আইনজীবী সময় প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট বিচারকরা সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
বিএনপি নেতা-কর্মীদের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী মো. শাহ নেওয়াজ সুমন বলেন, অভিযোগ গঠনের ধার্যদিনে আদালতে হাজির না থাকায় দুই দিনে তিনটি মামলায় বিএনপির ৮৪ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের লক্ষ্যে মুখে কালো পতাকা বেঁধে দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচির ডাক দেয় বিএনপি। কর্মসূচি সফল করতে ওইদিন রাতে দেশীয় অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে ইসলামপুর পৌর শহরের চর গাঁওকুড়া করিম চালী মোড়ে নাশকতার পরিকল্পনা করেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা — এমন অভিযোগে ইসলামপুর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ২২ নেতা-কর্মীর নামে বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনে মামলা করেন।
ওই মামলায় ২০২৪ সালের ৩০ জুন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তারেক আহমেদ ২৫ জন বিএনপি নেতা-কর্মীর নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে গত ১৫ জুলাই আদালতে হাজির না হওয়ায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১-এর বিচারক তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
এছাড়া ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর বিচারক ২০২৩ সালে ইসলামপুর থানায় দায়ের করা একটি নাশকতা মামলায় ৪৬ জন এবং একই অভিযোগে ২০২৪ সালের একটি মামলায় ১৩ জন বিএনপি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
ইসলামপুর থানার সাধারণ নিবন্ধন (জিআর) মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল কর্মকর্তা এসআই মো. সোহেল রানা বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় ২৫ আসামির বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা পেয়েছি। পরোয়ানাপ্রাপ্তরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
গ্রেফতারি পরোয়ানাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামপুর পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম ঢালী, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবির আহমেদ বিপুল মাস্টার, নোয়ারপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিল্লাল হোসেন, ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ কাজী, যুবদল নেতা বিপুল মিয়া, গোয়ালেরচর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান, গাইবান্ধা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাচ্চু সরদার, ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি আব্বাস আলী এবং গোয়ালেরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক পাগাল।
সময়ের আলো/আতা