পায়রার ভাঙনে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বাহেরচর গ্রাম

দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

সারাদেশ

পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙনে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে গ্রামের ২৫ থেকে

2026-09-11T14:07:17+00:00
2026-09-11T14:07:17+00:00
 
  শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
পায়রার ভাঙনে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বাহেরচর গ্রাম
দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০৭ পিএম 
পায়রার ভাঙনে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বাহেরচর গ্রাম। ছবি : সময়ের আলো
পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙনে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে গ্রামের ২৫ থেকে ৩০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে সরকারি রাস্তার ওপর মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভাঙনে এ পর্যন্ত দেড় শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। অনেকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেলেও সহায়-সম্বলহীন পরিবারগুলো বারবার নদীর পাড়ে ঘর তুলে টিকে থাকার চেষ্টা করছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভাঙনের কারণে কোনো কোনো পরিবার আট থেকে ১০ বার পর্যন্ত নতুন করে ঘর তুলেছে। শেষ সম্বলটুকুও নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় অনেকে এখন সরকারি রাস্তার ওপর আশ্রয় নিয়েছেন। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে ৩২ নম্বর আঙ্গারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাইক্লোন সেল্টার, সিকদার বাড়ি জামে মসজিদ এবং মোল্লা বাড়ি। ভাঙন অব্যাহত থাকলে দুটি বাড়িসহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে কথা হয় নিটুলী রানীর সঙ্গে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত সাতবার ভিটেমাটি হারিয়েছেন তিনি। সর্বশেষ আশ্রয়টুকুও নদীগর্ভে চলে যাওয়ার পর সরকারি রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছেন। এখন তাঁর আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।


জাকির খান (৫০) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কত মানুষ আইলো, কত কথা কইলাম, কিন্তু কোনো কাজ হইল না। আপনেগো লগে কথা কইয়া কী হইবো? কেউ তো আমাগো দিকে চাইলো না।

রিপন মাল (৩৭) বলেন, বাপ-দাদার সময় থেকেই এ গ্রাম ভাঙছে। তার নিজের বয়সেই পাঁচ-ছয়বার বসতঘর পরিবর্তন করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে বাজারে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছেন তিনি।

আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন সিকদার বলেন, এ পর্যন্ত তাদের প্রায় সাড়ে ৩০০ একর জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। ১৯৭৭-৭৮ সালে নদীর অন্য প্রান্তে বাকেরগঞ্জের সঙ্গে নতুন চরে ৬০টি পরিবারের জন্য ৯০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে বাকেরগঞ্জের লোকজন তা দখল করে রাখায় বাহেরচরের কোনো পরিবার সেই জমি পায়নি।


ভুক্তভোগী বাদল চৌকিদার বলেন, বারবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে তাদের সহায়-সম্বল বলতে আর কিছুই নেই। বাধ্য হয়ে রাস্তার ওপর বসবাস করতে হচ্ছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানান।

আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহীন গাজী বলেন, পায়রার অব্যাহত ভাঙনে তার ওয়ার্ডটি বিলুপ্তির পথে। মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বাহেরচর গ্রাম। দ্রুত ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।


আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বাহেরচর গ্রামের অস্তিত্ব রক্ষা এবং ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তায় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে। নদীভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হবে।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   দুমকি  পটুয়াখালী  পায়রার ভাঙন  মানচিত্র  বাহেরচর  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: