চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুর্ঘটনাকবলিত মানুষের দ্রুত চিকিৎসাসেবার জন্য চালু করা লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টার এক বছর না যেতেই বন্ধ হয়ে গেছে। প্রকল্পের মেয়াদ ও চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের (সিআইএমসি) সঙ্গে সরকারের চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে সেখানে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। এতে চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী, রোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আহতদের অনেকেই সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে চট্টগ্রাম শহরে নেওয়ার পথেই মারা যান। এমন বাস্তবতায় মহাসড়কের পাশে লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৩ সালে নির্মাণ করা হয় ট্রমা সেন্টারটি। ওই বছরের ২৯ আগস্ট এটি উদ্বোধন করা হলেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় দীর্ঘদিন চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর উদ্যোগে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সিআইএমসির যৌথ ব্যবস্থাপনায় ২০ শয্যার ট্রমা সেন্টারটি চালু করা হয়। চালুর পর এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতসহ প্রায় ১২ হাজার রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী সেখানে চিকিৎসা নিতেন। ছোটখাটো অস্ত্রোপচারও করা হতো।
সিআইএমসির পক্ষ থেকে ট্রমা সেন্টারে ছয়জন চিকিৎসক, ১৫ জন নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরের ৩১ জুলাই সরকারের সঙ্গে সিআইএমসির চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। এরপর নতুন করে চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়ে যায়।
ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা হোসনে আরা বেগম বলেন, ছেলের ড্রেসিং করাতে তিনি সেখানে এসেছিলেন। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় প্রয়োজনীয় সেবা পাননি। চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকায় তিনি হতাশ।
ট্রমা সেন্টারে কর্মরত হাবীবুর রহমান শহীদ বলেন, চালুর পর থেকে প্রায় ১২ হাজার সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ট্রমা সেন্টার পরিদর্শনে এসে যেকোনো মূল্যে এটি চালু রাখার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে বেতন, চিকিৎসক ও ওষুধসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো আশ্বাস পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের আশ্বাসে ট্রমা সেন্টারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আগস্ট মাসে বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করেছেন। শেষ পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় বর্তমানে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল ইফরান বলেন, ট্রমা সেন্টারটি পুনরায় চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই এ বিষয়ে অগ্রগতি হবে।
সিআইএমসির অধ্যক্ষ ডা. মো. মুসলিম উদ্দিন বলেন, ট্রমা সেন্টার চালুর পর আহত রোগীরা ভালো চিকিৎসাসেবা পাচ্ছিলেন। এটি চালু করতে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। এর মধ্যে সরকার ৭৯ লাখ টাকা দিয়েছিল। বাকি অর্থ পরবর্তী অর্থবছরের বরাদ্দ থেকে সমন্বয় করার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ের জন্য সরকারের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি নবায়ন করা হয়নি। ফলে ট্রমা সেন্টারটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর ট্রমা সেন্টারটি পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ট্রমা সেন্টারটি চালু রাখার উদ্যোগ নেওয়ার কথা স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের জানান।
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সময়েরে আলো/জোই