ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেটে ৪৬ গ্রাহকের দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

সারাদেশ

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাটে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির একটি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটে ভয়াবহ আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া ফিক্সড ডিপোজিট

2026-07-27T23:57:05+00:00
2026-07-27T23:57:05+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬,
১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেটে ৪৬ গ্রাহকের দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম 
আমানত হারানোর শঙ্কায় ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক শাখায় ভিড় করছেন শত শত গ্রাহক। ছবি : সময়ের আলো
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাটে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির একটি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটে ভয়াবহ আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া ফিক্সড ডিপোজিট রসিদ (এফডিআর) তৈরি করে অন্তত ৪৬ জন গ্রাহকের দুই কোটির বেশি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শাখাটির ক্যাশিয়ার ও এক অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আমানত হারানোর শঙ্কায় শত শত গ্রাহক শাখায় ভিড় করছেন।

রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে এক গ্রাহকের এফডিআরের অর্থ তুলতে গিয়ে অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর একে একে সামনে আসে আরও বিস্ময়কর তথ্য। রাত পর্যন্ত ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা শাখায় অবস্থান নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যায়।

ব্যাংক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে রেশমা বেগম নামে এক গ্রাহক পাঁচ বছর মেয়াদে ৫ লাখ টাকা এফডিআর করেন। সম্প্রতি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সেই টাকা তুলতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, ব্যাংকের মূল হিসাবে তার নামে কোনো এফডিআরই নেই।

রেশমা বেগম বলেন, প্রথমে তাকে পরে আসতে বলা হয়। নির্ধারিত দিনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, তার হাতে থাকা জমার রসিদ ও এফডিআর সনদ ভুয়া।

এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই একে একে আরও অনেক গ্রাহক নিজেদের হিসাব যাচাই করতে আসেন। তখন দেখা যায়, একই ধরনের অভিযোগের সংখ্যা বাড়ছে। কারও নামে ব্যাংকের রেকর্ডে কোনো এফডিআর নেই, আবার কারও সঞ্চয়ী হিসাবে জমা টাকার বড় ধরনের গরমিল পাওয়া যাচ্ছে।


ভুক্তভোগী হেলাল মন্ডল জানান, তিন বছর আগে তিনি ৪ লাখ টাকা এফডিআর করেছিলেন। কিন্তু ব্যাংক এখন বলছে, তার নামে কোনো এফডিআর খোলা হয়নি।

আরেক গ্রাহক লাজু মন্ডল বলেন, তার সঞ্চয়ী হিসাবে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা জমা ছিল। এর মধ্যে এক লাখ টাকা উত্তোলনের পর হিসাবে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা থাকার কথা। কিন্তু ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে সেখানে মাত্র এক হাজার টাকা রয়েছে।

ওমর ফারুকসহ কয়েকজন গ্রাহকের অভিযোগ, তাদের হাতে ব্যাংকের জমার রসিদ থাকলেও কেন্দ্রীয় হিসাব ব্যবস্থায় সেই অর্থের কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এতে গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর রোববার বিকেল থেকেই শত শত গ্রাহক ধাপেরহাট এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটে জড়ো হন। ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাখার ভেতরে আটকে রাখেন। পরে রাত প্রায় ১টার দিকে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরুদ্ধদের উদ্ধার করে।

ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মতিউল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। গ্রাহক ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে আপাতত উত্তেজনা প্রশমিত হয়েছে।

এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের স্বত্বাধিকারী মো. ওয়ালিউর রহমান বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শাখার ক্যাশিয়ার মো. সবুজ মিয়া ও অফিস সহায়ক মো. মাহবুল ইসলাম মিলে এ অনিয়ম করেছেন। এখন পর্যন্ত ৪৬ জন গ্রাহকের দুই কোটির বেশি টাকা আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে।

তার বলেন, অভিযুক্তদের কাছ থেকে স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে। সেখানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রাহকদের সব অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।


ধাপেরহাট এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট তদারককারী ইসলামী ব্যাংকের পীরগঞ্জ (রংপুর) শাখার ব্যবস্থাপক মো. হাদিউল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণের পর তাদের হাতে ভুয়া জমার স্লিপ ও স্ক্যান করা এফডিআর সনদ তুলে দেওয়া হতো। সন্দেহ এড়াতে অনেক গ্রাহককে নিয়মিত লাভের টাকাও দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু এফডিআর নয়, সঞ্চয়ী হিসাবের ক্ষেত্রেও কিছু গ্রাহকের সরলতার সুযোগ নিয়ে অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং প্রকৃত হিসাব যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে লিখিতভাবে টাকা ফেরতের অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে।

তবে আশ্বাসে ভরসা পাচ্ছেন না অনেক গ্রাহক। সোমবারও ধাপেরহাট শাখায় অসংখ্য গ্রাহক ভিড় করেন নিজেদের হিসাব যাচাই করতে। ভুক্তভোগীদের দাবি, শুধু অর্থ ফেরতের প্রতিশ্রুতি নয়, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয়দের মতে, এ ঘটনা শুধু একটি শাখার অনিয়ম নয়; এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তদারকির দুর্বলতাও সামনে নিয়ে এসেছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অর্থ ফেরতের পাশাপাশি এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য কার্যকর নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সময়ের আলো/আতা


  বিষয়:   ইসলামী ব্যাংক  এজেন্ট আউটলেট  গ্রাহক  আত্মসাৎ  গাইবান্ধা  রংপুর 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: