ফ্রিল্যান্সার ও সৃজনশীল অর্থনীতির স্বীকৃতি : বাজেট সংলাপে গুরুত্ব পেল অনানুষ্ঠানিক খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ উপলক্ষে রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে দ্য বাংলাদেশ ডায়ালগের পঞ্চম টাউন

2026-06-07T02:39:26+00:00
2026-06-07T02:45:18+00:00
 
  রবিবার, ৭ জুন ২০২৬,
২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
অর্থনীতি
ফ্রিল্যান্সার ও সৃজনশীল অর্থনীতির স্বীকৃতি : বাজেট সংলাপে গুরুত্ব পেল অনানুষ্ঠানিক খাত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ৭ জুন, ২০২৬, ২:৩৯ এএম  আপডেট: ০৭.০৬.২০২৬ ২:৪৫ এএম  (ভিজিট : ১৫)
সংগৃহীত ছবি
জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ উপলক্ষে রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে দ্য বাংলাদেশ ডায়ালগের পঞ্চম টাউন হল ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: প্রত্যাশা, অগ্রাধিকার ও করণীয়’। দ্য বাংলাদেশ ডায়ালগের উদ্যোগে আয়োজিত এ রাউন্ড টেবিল আলোচনায় সরকারের উপদেষ্টা, রাজনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার, করপোরেট প্রতিনিধি ও বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনরা অংশ নেন।

আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইস্রাফিল খসরু, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি ও সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, বিকাশের সিইও কামাল কাদীর, দ্য বাংলাদেশ ডায়ালগের প্রেসিডেন্ট রুবায়েত মান্নান রাফি, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনের চিফ ডিজিটাল অফিসার আহমেদ জাফরুল হাসান, ব্রেইনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. শফিকুর রহমান, দ্য বাংলাদেশ ডায়ালগের ডিরেক্টর মেহেরবা সাবরিন, এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল্লাহ আল ফয়সাল, অর্থনীতিবিদ জিয়া হাসান, প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার সানাউল্লাহ সাকিব, দ্য বাংলাদেশ ডায়ালগের ডিরেক্টর এস এম সাইফ কাদের রুবাব, গিয়ার্স গ্রুপ ও ব্যাকোর ডিরেক্টর সাইমা শওকত, সুইস দূতাবাসের প্রতিনিধি শিরিন সুলতানা লিরা, পিএইচডি গবেষক তাহমিদ হাসান এবং দ্য বাংলাদেশ ডায়ালগের ডিরেক্টর সাবিহা জাকির ও গুলে জান্নাত দিশা।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, নতুন বাজেটে করের হার বৃদ্ধি না করে করদাতার সংখ্যা এবং করের আওতা বাড়ানো হবে। করপোরেট খাতে এসআরওনির্ভরতা ও হয়রানি কমাতে ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা চালু করা হবে এবং রাজস্ব ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ডিজিটাল করা হচ্ছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের গণতান্ত্রিক মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য সামনে রেখেই এসব সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হবে এবং কর কাঠামো কমপক্ষে পাঁচ বছর অপরিবর্তিত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে শিল্পকারখানার জন্য বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিশ্চয়তা, ব্যাংক খাত সংস্কারের মাধ্যমে অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি, সমান প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ এবং বাজার সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শিল্প ও জ্বালানি খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে পুনরায় শিল্পনীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শুধু বিদ্যুৎ বা সোলার প্যানেল আমদানির পরিবর্তে ইলেকট্রিক বাস ও রেলওয়ের লোকোমোটিভ উৎপাদনের মতো স্বনির্ভর শিল্পায়নের ওপর জোর দেওয়া হবে। এলএনজি ও এলপিজির আমদানি ব্যয় কমাতে বড় জাহাজ ভেড়ার সুবিধা এবং কৌশলগত মজুত ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার সুফল সাধারণ মানুষ পাবে।

তিতুমীর আরও বলেন, উত্তরবঙ্গের উদ্বৃত্ত কৃষিপণ্য, ফল ও দুগ্ধজাত পণ্যের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বন্ধ থাকা বিজিএমসি, বিটিএমসি, স্টিল ও কেমিক্যাল করপোরেশনের কারখানাগুলোতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে। ওষুধ, চামড়া, ইলেকট্রনিকস, খেলনা, আইসিটি এবং সৃজনশীল অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠনের তিন ধাপের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পুঁজিবাজারে গভীরতা বাড়াতে বিমানসহ বিভিন্ন খাতের বন্ড চালুর উদ্যোগ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়নের কথাও জানান তিনি।

বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইস্রাফিল খসরু বলেন, গত ১৭ বছরের গোষ্ঠীস্বার্থনির্ভর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা দেশের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং বর্তমান সরকার একটি দুর্বল অর্থনীতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করতে একজন তরুণ উদ্যোক্তাকে ১৯টি লাইসেন্স নিতে হয়, যা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের পরিপন্থী। আগামী বাজেটে এসব জটিলতা দূর করার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, আগামী ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য অর্জনে অনানুষ্ঠানিক খাতকে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর, শিল্পীসহ সৃজনশীল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি ও সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তনের পর থেকে ব্যাংক খাতে সুশাসনের অবনতি শুরু হয়। বর্তমানে ৫৭টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র ১৫ থেকে ২০টি ব্যাংককে ভালো অবস্থানে বলা যায়। তিনি জানান, ব্যাংকিং খাতের সামগ্রিক মূলধন পরিস্থিতি এখন ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক অতিমাত্রায় কমার্শিয়াল ব্যাংকমুখী হয়ে পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার রাজস্ব ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাত থেকে ব্যাপক ঋণ নেওয়ায় বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাওয়ায় তিন লাখ কোটি টাকারও বেশি অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে চলে গেছে, যা তারল্য সংকটকে আরও গভীর করেছে।

বিকাশের সিইও কামাল কাদীর বলেন, করের আওতা বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রতিবছর একই করদাতাদের ওপর চাপ না বাড়িয়ে নতুন করদাতা তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে চার থেকে পাঁচ বছরের সুস্পষ্ট কর সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, উদ্ভাবন বা ইনোভেশন খাতে সরকারের আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিকাশ দেশের জন্য নতুন কর আহরণের ক্ষেত্র তৈরি করেছে। ডিজিটাল উদ্যোক্তারা সরকারি সম্পদ নয়, বরং স্থিতিশীল ও গ্রহণযোগ্য নীতিমালা চান। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সাল পর্যন্ত এনবিআরের নিয়ম অনুযায়ী বার্ষিক ৩৬ লাখ টাকার মধ্যে নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে বিকাশ আড়াই শতাংশ কর রেয়াত পেত, যা পরবর্তীতে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

দ্য বাংলাদেশ ডায়ালগের প্রেসিডেন্ট রুবায়েত মান্নান রাফি বলেন, বাজেটের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি শক্তিশালী করা। তিনি সরকারের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো এবং করের আওতা সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি।

দ্য বাংলাদেশ ডায়ালগ আয়োজিত এ গোলটেবিল আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন রুবায়েত মান্নান রাফি এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির ডিরেক্টর এস এম সাইফ কাদের রুবাব।

আরবিএন 


  বিষয়:   দ্য বাংলাদেশ ডায়ালগ  জাতীয় বাজেট 


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: