ছয় দফা দাবি আদায়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে গেছেন।
রোববার (৭ মে) সকাল ৮টা থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয় বলে জানিয়েছে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন।
কর্মবিরতির পাশাপাশি একই দাবিতে আজ বেলা ১১টার পর ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও। ফলে পুরো হাসপাতাল ও কলেজ ক্যাম্পাসে চিকিৎসা ও শিক্ষাক্রমে অচলাবস্থার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মো. ইরফানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বেলা ১১টায় হাসপাতালের প্রধান ফটকে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এফসিপিএস প্রশিক্ষণসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ফলে চিকিৎসা শিক্ষার পরিবেশ ও পেশাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কিছু হাসপাতালে নতুন পদায়ন বন্ধ, উপজেলায় বাধ্যতামূলক সেবা এবং ভাতা কাঠামো পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই এ আন্দোলন শুরু হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বারবার আলোচনার চেষ্টা সত্ত্বেও তাদের অধিকাংশ দাবি নিয়ে কোনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই তারা কর্মবিরতির পথে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে বলেও তারা ঘোষণা দিয়েছেন।
চিকিৎসকদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- এফসিপিএস প্রশিক্ষণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, সরকারি চিকিৎসকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ এবং ভুয়া চিকিৎসক শনাক্তে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।
এছাড়া চিকিৎসা শিক্ষা ও নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে ভর্তি পরীক্ষার ফি নির্ধারণসহ আরও কিছু সংস্কার দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) জানিয়েছে, সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর কিছু সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উপজেলায় প্রশিক্ষণ বাধ্যবাধকতা বাতিল এবং নির্দিষ্ট শর্তে সরকারি মেডিকেল কলেজে প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা সুবিধার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাকিব হোসেন বলেন, ‘রোগীদের স্বার্থ বিবেচনায় আমরা পূর্বে কর্মসূচি স্থগিত করেছিলাম। তবে একাধিক সময়সীমা দেওয়ার পরও কার্যকর অগ্রগতি না হওয়ায় আমরা এখন কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছি।’
এএডি/