তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে একটি স্বপ্ন বুকে লালন করছিলেন রাউজানের বৌদ্ধ ভিক্ষু শ্রীমৎ উ পঞ্ঞা চক্ক মহাথের। স্বপ্নটি ছিল সাধারণ কিন্তু উদ্দেশ্য ছিল মহৎ। তিন গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ ঘোচানো। সেই স্বপ্ন আজ বাস্তব। ধানি জমির বুক চিরে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ ফুট দীর্ঘ একটি উড়াল সেতু। যা নির্মিত হয়েছে শুধু মানুষের ভালোবাসা আর দানের অর্থে।
দীর্ঘ ৩৩ বছরের স্বপ্ন রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী খৈয়াখালি ও কদলপুর ইউনিয়নের মাঝখানে বিস্তৃত ধানি জমি দুই ইউনিয়নের মানুষকে বছরের পর বছর আলাদা করে রেখেছিল। এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে যেতে হলে প্রায় চার কিলোমিটার বেশি পথ ঘুরে যেত হতো। বর্ষাকালে কষ্ট হতো আরও বেশি, বিশাল এলাকা ডুবে থাকত পানির নিচে। যে গ্রামে যেতে আগে লেগে যেত ৩০ মিনিট, এখন সেতু নির্মাণের পর সেই পথ এখন পাড়ি দেওয়া যায় মাত্র ৫ মিনিটে।
৩৩ বছর আগে এই দুর্ভোগের কথা মনে গেঁথে যায় বৌদ্ধ ভিক্ষু শ্রীমৎ উ পঞ্ঞা চক্ক মহাথের। তখন থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন একটি সেতুর, যা তিন গ্রামের মানুষকে এক করবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০১৯ সালে শুরু হয় সেতুর নির্মাণকাজ। এলাকার অসংখ্য ভক্তরা এগিয়ে আসেন সাহায্যের হাত নিয়ে। তাদের দানের অর্থেই গড়ে ওঠে এই স্বপ্নের সেতু। পেশাদার শ্রমিকদের পাশাপাশি এলাকার নারী-পুরুষ স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করেন। হিন্দু, মুসলিম ও বৌদ্ধ তিন ধর্মের মানুষের জমির উপর দিয়ে নির্মিত এই সেতুতে সবাই আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন।
মাত্র এক বছরের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ হয় এবং সেতুটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ধানি জমির উপর সেতু নির্মিত হলেও জমির আইল ধরে সেতু তৈরি করা হয়েছে, যাতে ফসলের কোনো ক্ষতি না হয়।
সেতু নির্মাণের স্বপ্নদ্রষ্টা শ্রীমৎ উ পঞ্ঞা চক্ক মহাথের বলেন, দীর্ঘ বছর আমি স্বপ্ন দেখেছি এই কয়েক গ্রামের মানুষগুলোর কষ্ট সমাধান করা যায়। সেই ইচ্ছা থেকেই ২০১৯ সালে সেতুর কাজ শুরু করি।
তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হলে সব দিকে উন্নতি আসে। সেই বিশ্বাস থেকেই এই সেতু গড়ার উদ্যোগ। সেতুর মূল নির্মাণকাজ শেষ হলেও রেলিং স্থাপনের কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। রেলিং লাগানো হলে সেতুটি আরও নিরাপদ ও দৃষ্টিনন্দন হবে বলে জানান তিনি।
সময়ের আলো/জোই