সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড : আদালতের রায় মেনে নিয়েছে সোহেলের পরিবার

নাটোর প্রতিনিধি

সারাদেশ

দেশজুড়ে আলোচিত পল্লবীর শিশু রামিসা আক্তার (৮) ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে

2026-06-07T19:10:11+00:00
2026-06-07T19:10:11+00:00
 
  রবিবার, ৭ জুন ২০২৬,
২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
সারাদেশ
সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড : আদালতের রায় মেনে নিয়েছে সোহেলের পরিবার
নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ৭ জুন, ২০২৬, ৭:১০ পিএম   (ভিজিট : ১৬)
নাটোরের সিংড়া উপজেলার মহেশচন্দ্রপুর গ্রামে সোহেলের পরিবারের সদস্যরা। ছবি : সময়ের আলো
দেশজুড়ে আলোচিত পল্লবীর শিশু রামিসা আক্তার (৮) ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে দেওয়া আদালতের রায় মেনে নিয়েছে সোহেলের পরিবার।

রোববার (৭ জুন) সকালে রায় ঘোষণার আগে কারাগার থেকে বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চায় আসামি সোহেল রানা।

রোববার (৭ জুন) ঢাকার আদালতে রায় ঘোষণার পর নাটোরের সিংড়া উপজেলার মহেশচন্দ্রপুর গ্রামে সোহেলের পরিবারের সদস্যরা এ তথ্য জানান। 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, রোববার (৭ জুন) সকালে কারা কর্তৃপক্ষের ফোন থেকে বাবা জাকির হোসেনের সঙ্গে কথা বলেন সোহেল রানা। এ সময় তিনি নিজের অপরাধের জন্য বাবার কাছে ক্ষমা চান। পাশাপাশি দাদার বাড়িতে থাকা তার প্রথম স্ত্রীর ১০ বছর বয়সি ছেলে মিনহাজের সঙ্গেও প্রায় তিন বছর পর কথা বলেন। 

রোববার বিকালে সোহেলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আঙিনা জুড়ে অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক পরিবেশ। পরিবারের সদস্যরা নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত ছিলেন। পরিবারের নিকট আত্মীয় ও স্বজন তাদের মধ্যে কোন হায়-হুতাশ, কান্নাকাটি লক্ষ্য করা যায় নি।   
তারা জানান, আদালতের রায়ের বিষয়ে তারা আগে থেকে কিছু জানতেন না। দুপুরের পর স্থানীয়দের মাধ্যমে রায়ের খবর জানতে পারেন।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সোহেলের বোন জলি বেগম বলেন, আমরা আগেই ধারণা করেছিলাম আমার ভাইয়ের ফাঁসি হবে। আদালত যে রায় দিয়েছেন, আমরা তা মেনে নিয়েছি। আমাদের আর্থিক সামর্থ্য থাকলে আপিল করার চেষ্টা করতাম।

সোহেলের বাবা জাকির হোসেন বলেন, আমরা গরিব মানুষ। আপিল করার মতো টাকা-পয়সা আমাদের নেই। সরকার যদি খরচ দেয় বা আইনজীবীর ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে আপিল করার কথা চিন্তা করব।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোহেলের অতীত জীবন নিয়েও এলাকায় নানা অভিযোগ ছিল। পরকীয়া, চুরি, জুয়াসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সিংড়ায় থাকাকালীন স্থানীয় একটি নির্মাণাধীন ব্রিজের রড চুরির মামলাও রয়েছে। ঋণগ্রস্ত হয়ে প্রায় চার বছর আগে দ্বিতীয় স্ত্রী স্বপ্নাকে নিয়ে তিনি সিংড়া ছেড়ে ঢাকায় চলে যান। 

রায়ের পর সোহেলের নিজ গ্রাম মহেশচন্দ্রপুরের বাসিন্দারাও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, আলোচিত এ মামলার দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। 

উল্লেখ্য, পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি সোহেল রানা (৩৩) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৮) মৃত্যুদণ্ড দেন ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। রোববার (৭ জুন ) সকাল ১১টায় বিচারক মাসরুর সালেকীন রায় ঘোষণা শুরু করেন এবং বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে রায় পাঠ শেষ করেন। আলোচিত এ মামলার বিচারকাজ অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ায় এটি দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। 

সময়ের আলো/জেডি 



  বিষয়:   সোহেল-স্বপ্না দম্পতি  মৃত্যুদণ্ড : আদালত  পরিবার  রামিসা হত্যাকাণ্ড 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: