বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার দীঘি থেকে সরিয়ে নেওয়া একমাত্র কুমিরটি দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে ‘সাধারণ জনগণ’-এর ব্যানারে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খানজাহান মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম। এ সময় মাজারের অন্যান্য খাদেম ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে মাজারের প্রধান খাদেম বলেন, ‘বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজার দীঘিতে থাকা একমাত্র কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়ায় বাগেরহাটবাসী চরম হতাশ ও মর্মাহত হয়েছে। মাজারের কুমির শত শত বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি কেবল একটি সাধারণ প্রাণী নয়, বরং বাগেরহাটের ঐতিহ্যের প্রতীক, আবেগের অংশ এবং ইতিহাসের এক জীবন্ত স্মারক। দেশ-বিদেশের অসংখ্য দর্শনার্থী ও ধর্মপ্রাণ মানুষ এই দীঘির নিদর্শন ও কুমির দেখার জন্য এখানে আসেন।’
সম্প্রতি দীঘির কুমিরের আক্রমণে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত একটি দুর্ঘটনার পর হঠাৎ করে এভাবে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী দীঘি থেকে কুমির সরিয়ে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। প্রশাসন চাইলে মাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে পারত। দর্শনার্থীদের সুরক্ষায় দীঘিতে সুরক্ষা বেষ্টনী, সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি ও পর্যাপ্ত পাহারার ব্যবস্থা করা সম্ভব ছিল।’
তিনি আরও জানান, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাজার কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে নিজস্ব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং প্রশাসনকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয়দের কোনো মতামত বা আবেগকে বিবেচনায় না নিয়ে প্রশাসন তড়িঘড়ি করে কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। মাজারের ঐতিহ্য ও পর্যটন রক্ষা করতে অনতিবিলম্বে কুমিরটিকে দীঘিতে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান মাজারের খাদেম ও স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য, গত ১ জুন মাজারের দীঘিতে গোসল করতে নেমে কুমিরের আক্রমণে ফাতেমা নামে আট বছর বয়সি এক শিশুর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসন জরুরি সভা ডেকে দীঘি থেকে কুমির সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ৩ জুন (বুধবার) বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ দীঘির একমাত্র নারী কুমিরটিকে ধরে খুলনার বয়রার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যায়।
সময়ের আলো/জেডি