এফসিপিএস প্রশিক্ষণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়নসহ ছয় দফা দাবিতে প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
রোববার (৭ জুন) দুপুরে মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শেষে হাসপাতাল পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেন বরাবর ছয় দফা দাবি পেশ করেন ইন্টার্ন চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ। তারা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দেন। তবে এতে চিকিৎসা সেবা ‘পুরোপুরি বিঘ্নিত হচ্ছে না’ বলে দাবি তাদের।
এ সময় ইন্টার্ন ডা. আসিফ খান, ডা. ফয়সাল মাহমুদ, ডা. মাসুমা সুলতানা তিম্মি, ডা. ফারদিন শিহাবসহ অন্যান্য ইন্টার্ন চিকিৎসকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বলেন, আমাদের ছয়টি দফার মধ্যে প্রথম দাবির বিষয়ে কিছুটা আশ্বাস দেওয়া হলেও বাকি দাবিগুলোর বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি মেলেনি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা কর্মবিরতি পালন করছি বলে জানান আন্দোলনকারীরা। তারা জানান, আমরা ইন্টার্ন ডাক্তাররা কর্মবিরতি শুরু করলেও মমেক হাসপাতালের ট্রেইনি ডাক্তাররা দায়িত্ব পালন করছেন। তাই চিকিৎসা সেবা কিছুটা ব্যাহত হলেও বন্ধ হয়ে যায়নি। তবে দাবি আদায় না হলে আমরা কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হব।
আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ৬ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক এফসিপিএস পাট-১ উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়নের নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটি প্রস্তাবনা বাতিল করতে হবে। বিএমডিসি, বিসিপিএস এর ভর্তি পরীক্ষার ফ্রি কমিয়ে ৫০০-১০০০ টাকার মধ্যে আনতে হবে। নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বেতন ন্যূনতম ৩০০০০ টাকা এবং ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন আবাসিক ভাতাসহ ৯ম গ্রেডের সমপর্যায়ে নির্ধারণ করে প্রতি মাসের বেতন প্রতি মাসেই পরিশোধ করতে হবে। স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করতে হবে। বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরি প্রবেশের বয়সসীমা পূর্বের ন্যায় জেনারেলদের চেয়ে ২ বছর বেশি অর্থাৎ ৩৪ করতে হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য সুস্পষ্ট বেতন কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে। (শ্রম আইন ২০০৬ এর যথাযথ প্রয়োগ এবং পে-স্কেলের আদর্শ মেনে)।
সময়ের আলো/জোই