ফুটবল বিশ্বকাপে নিয়মিত দেখা যায় ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, স্পেন কিংবা জার্মানির মতো পরাশক্তিদের। তবে ২০২৬ আসরে তাদের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যাবে এমন একটি দেশ, যার জনসংখ্যা ঢাকা শহরের থেকে প্রায় ৭০ গুণ কম। আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে গঠিত কেপ ভার্দে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকেট কেটে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছে।
১৯৭৫ সালে স্বাধীনতা লাভের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে যাত্রা শুরু করে দেশটি। শুরুতে আফ্রিকান ফুটবলের প্রেক্ষাপটে তারা আড়ালেই পড়ে ছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলেছে তারা। দেশের বাইরেও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ভার্দিয়ান বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ জাতীয় দলকে দিয়েছে নতুন মাত্রা।
গত কয়েক বছরে কেপ ভার্দে নিজেদের এমন এক দলে পরিণত করেছে, তাদের বিপক্ষে জয় পাওয়া সহজ নয়। রক্ষণভাগে দৃঢ়তা, শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা তাদের আলাদা পরিচয় করে দিয়েছে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সেই সামর্থ্যরেই প্রমাণ দিয়েছে ব্লু শার্কসরা। পাঁচ ম্যাচে শতভাগ জয় নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে তারা।
আরও অবাক করার মতো বিষয়, পুরো বাছাইপর্বে প্রতিপক্ষ কোনো গোলই করতে পারেনি তাদের বিপক্ষে। ক্যামেরুন ও অ্যাঙ্গুলার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ গ্রুপে থাকা সত্ত্বেও গ্রুপসেরা হয়েই ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করে তারা।
কেপ ভার্দের বর্তমান দলে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের দারুণ সমন্বয় রয়েছে। অধিনায়ক রায়ান মেন্ডেস, গোলরক্ষক ভোজিনহা, ডিফেন্ডার রবার্তো লোপেস, মিডফিল্ডার জামিরো মন্টেইরো ও ফরোয়ার্ড গ্যারি রদ্রিগেসের মতো ফুটবলাররা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইউরোপের বিভিন্ন লীগে খেলা তাদের আরও প্রতিযোগিতাপূর্ণ করে তুলেছে।
কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ যাত্রার অন্যতম স্থপতি জাতীয় দলের প্রধান কোচ পেড্রো লেইতাও বিট্রো। ফুটবল বিশ্বে তিনি ‘বুবিস্তা’ নামে পরিচিত। খেলোয়াড়ি জীবনে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামা এই সাবেক ডিফেন্ডার পরবর্তী সময়ে কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে দলকে নিয়ে যান নতুন উচ্চতায়।
বিশ্বকাপের ‘এল’ গ্রুপে কেপ ভার্দের প্রতিপক্ষ স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরব। কাগজে-কলমে কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেও আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছে না দলটি বরং প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে নিজেদের চেনানোর সুযোগ হিসেবেই দেখছে তারা।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৬৭তম অবস্থানে থাকা দেশটির জন্য বিশ্বকাপে অংশগ্রহণই একটি ঐতিহাসিক অর্জন। তবে কেপ ভার্দে শুধু ইতিহাস গড়েই থেমে থাকতে চায় না। বিশ্বকাপের আলোয় নিজেদের ফুটবল দর্শন তুলে ধরে চমক দেখানোর স্বপ্নও দেখছে তারা। ছোট্ট একটি দ্বীপরাষ্ট্রের এই যাত্রা ইতিমধ্যে আফ্রিকান ফুটবলের অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায়ে পরিণত।
/এসএকে