বিগত সরকারের অনুসৃত ভুল অর্থনৈতিক নীতির কারণে দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে ভুল নীতিমালার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের তীব্র সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির অস্থিতিশীলতাও এই ঘাটতি বাড়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এই তথ্য জানান।
চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের আমদানি ও রপ্তানির অফিসিয়াল পরিসংখ্যান অনুযায়ী সার্কভুক্ত দেশ ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। তবে এই অঞ্চলের অন্য তিন দেশ নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে।
নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, দেশের রপ্তানি বাণিজ্য এখনো তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল এবং দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশই অর্জিত হয় এই খাত থেকে। জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের মোট ২০২টি দেশে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে।
সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদের চামড়া শিল্প সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি আয় গত তিন বছর ধরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের ঘরে আটকে রয়েছে। হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সাভারে স্থানান্তর করার পর পরিবেশগত ও পরিকাঠামোগত কারণে প্রত্যাশিত সুবিধা পাওয়া যায়নি, যার ফলে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা কমেছে এবং এই খাতের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না।
নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, এ বছর কোরবানির পশুর সংখ্যা নিয়ে সরকারের কাছে যে তথ্য এসেছে, তাতে দেশে প্রায় এক কোটি এক লাখ পশু কোরবানি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ পশুর চামড়া সংগ্রহ ও সফলভাবে সংরক্ষণের সঠিক তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সন্তোষজনক। মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের কোথাও সংরক্ষিত চামড়া বিক্রি করা না গেলে সংসদ সদস্যরা তা জানালে চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে দ্রুত বিক্রির ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবে সরকার।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার অর্থপাচার সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বছরে প্রায় ৬৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি এবং ৫৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়ে থাকে। প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলারের এই বিশাল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের মধ্যে ঠিক কোন কোন পণ্যের ওভার বা আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে অর্থপাচার হচ্ছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে পিনপয়েন্ট করা একটি গভীর গবেষণার বিষয়।
সময়ের আলো/টিএইচ