সমুদ্র নিয়ে বিখ্যাত ৫ বই

বন্যা নাসরিন

ফিচার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন, ‘হে সমুদ্র, স্তব্ধচিত্তে শুনেছিনু গর্জন তোমার রাত্রিবেলা; মনে হলো গাঢ় নীল নিঃসীম নিদ্রার স্বপ্ন ওঠে কেঁদে কেঁদে।’

2026-06-08T21:53:27+00:00
2026-06-08T21:55:23+00:00
 
  সোমবার, ৮ জুন ২০২৬,
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
ফিচার
সমুদ্র নিয়ে বিখ্যাত ৫ বই
বন্যা নাসরিন
প্রকাশ: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৯:৫৩ পিএম  আপডেট: ০৮.০৬.২০২৬ ৯:৫৫ পিএম  (ভিজিট : ১৩)
সমুদ্র নিয়ে রচিত হয়েছে বিখ্যাত অনেক বই। গ্রাফিক : সময়ের আলো
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন, ‘হে সমুদ্র, স্তব্ধচিত্তে শুনেছিনু গর্জন তোমার রাত্রিবেলা; মনে হলো গাঢ় নীল নিঃসীম নিদ্রার স্বপ্ন ওঠে কেঁদে কেঁদে।’ তার এ লেখায় প্রকাশ পায় সামুদ্রিক ঢেউয়ের আড়ালে লুকোনো কান্নার গান। শুধু রবীন্দ্রনাথ নন, সমুদ্রের আনন্দ, বেদনা কিংবা গভীরতাকে ছুঁতে পেরেছিলেন আরও অনেক লেখকই। তাইতো শত শত বছর ধরে গল্প, কবিতা, উপন্যাসে উঠে এসেছে সমুদ্রের কথা। রচিত হয়েছে বিখ্যাত অনেক বই।

কিংকং
লেখক এডগার ওয়ালেস ও মেরিয়ান সি. কুপারের একটি কাল্পনিক চরিত্র কিংকং। এটি মূলত একটি বিশাল আকারের গরিলা বা দানব। বইয়ের গল্পে দেখা যায়, একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা দলবল নিয়ে রহস্যময় স্কাল দ্বীপে পৌঁছান। সেখানে মুখোমুখি হন কিংকং নামে এক দানবের। তারপর দানবটিকে বন্দি করে নিউইয়র্কে নিয়ে আসলে শহরের ভবনে সে তাণ্ডব চালায়। নানান ঘটনার পর করুণ পরিণতির ভেতর দিয়ে শেষ হয় এ বইয়ের গল্প।


মবি-ডিক
বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ক্ল্যাসিক মবি-ডিক। হারম্যান মেলভিলের এ বইয়ের কথক হলেন ইসমাইল নামে এক তরুণ। তিনি অ্যাডভেঞ্চারের খোঁজে ন্যানটকেট দ্বীপে পৌঁছান এবং কুইক্যাগ নামে একজন আদিবাসীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করেন। তারা দুজনেই 'পেকোড' নামক একটি তিমি শিকারি জাহাজে নাবিক হিসেবে যোগ দেন। সেই জাহাজের ক্যাপ্টেন আহাব থাকে প্রতিশোধের নেশায় মত্ত। মবি-ডিক নামে বিশাল সাদা তিমি তার একটি পা ছিঁড়ে খেয়েছিল। তাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় সেই তিমির বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া। আহাবের চরিত্রের মাধ্যমে মানুষের চরম জেদ, অন্ধত্ব ও ধ্বংসাত্মক স্বভাব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বইটিতে। আবার, মানবজাতি বনাম প্রকৃতির চিরন্তন লড়াইও তুলে ধরা হয়েছে।


দ্য ওল্ড ম্যান এন্ড দ্য সী
আর্নেস্ট হেমিংওয়ের লেখা এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সান্তিয়াগো। তিনি এক বৃদ্ধ জেলে। একটানা ৮৪ দিন তিনি সমুদ্রে মাছ ধরতে গেছেন, কিন্তু তাকে ফিরতে হয়েছে শূন্য হাতে। ৮৫ তম দিনে এক বিশাল মার্লিন মাছকে বড়শিতে আটকাতে সমর্থ হন তিনি। কিন্তু এত বড় মাছটিকে তিনি কব্জা করতে পারছিলেন না কিছুতেই। দুই দিন দুই রাতের নিরলস প্রচেষ্টার পর সফল হন তিনি। গারপুনে গেঁথে মাছটিকে নৌকার পাশে রেখে তীরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন সান্তিয়াগো। কিন্তু, তখন আবার হাঙরের দল ছুটে আসে মাছটিকে ছিনিয়ে নিতে। হাঙরগুলোর সঙ্গে তিনি প্রাণপণ যুদ্ধ করলেন, কিন্তু রক্ষা করতে পারলেন না মাছটিকে। তারপর ক্লান্ত দেহে মাছের কঙ্কাল নিয়ে ফিরে এলেন তিনি। ঘুমিয়ে পড়লেন নিজের ঘরে। স্বপ্ন দেখতে লাগলেন আগামী দিনের। এ গল্প সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে শেখায়, হাল ছেড়ে না দিয়ে আগামী দিনের স্বপ্ন দেখতে শেখায়।  


যে কখনো সমুদ্র দেখেনি
জঁ-মারি গুস্তাভ ল্য ক্লেজিও রচিত এ বইয়ের একটি চরিত্র দানিয়েল, যে সমুদ্র খুব পছন্দ করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তার কখনও সমুদ্র দেখা হয়নি। তাই সে একদিন সমুদ্রের খোঁজে বেরিয়ে পড়ে। তার এই যাত্রা এক আত্ম আবিষ্কারের গল্প।


টুয়েন্টি থাউজ্যান্ড লিগ আন্ডার দ্য সী
জুল ভার্নের এ বই ভবিষ্যতবাণীমূলক কল্পবিজ্ঞান। গল্পের সারসংক্ষেপ এমন, ১৮৬৬ সালে এক রহস্যময় সামুদ্রিক প্রাণীর আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে পুরো বিশ্ব। তারপর সেই প্রাণীটিকে শিকার করতে বেরিয়ে পড়ে ফরাসি বিজ্ঞানী অধ্যাপক পিয়ের অ্যারোনাক্স, তার ভৃত্য কনসেইল এবং কানাডীয় তিমি শিকারি নেড ল্যান্ড। পরে তারা আবিষ্কার করেন, এটি কোনো প্রাণী নয়, বরং ক্যাপ্টেন নিমোর তৈরি এক অত্যাধুনিক সাবমেরিন! এই উপন্যাসে লেখক যে সাবমেরিন, ডাইভিং সুট ও উন্নত প্রযুক্তির ধারণা দিয়েছেন, তা আধুনিক যুগের সাবমেরিন আবিষ্কারের ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

সমুদ্র আমাদের অনেককিছুই শেখায়। কখনও সরাসরি সেই শিক্ষা লাভ করা যায়, কখনওবা বই বা সিনেমার মাধ্যমে। আনন্দ, মুগ্ধতা, গভীরতা ও জীবনমুখী শিক্ষার এক অপূর্ব মেলবন্ধন সমুদ্র তাই আমাদের চিরকাল পছন্দের।

/মহু



  বিষয়:   সমুদ্র  বই  বিখ্যাত 


Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: