কিশোরগঞ্জের মিঠামইন থেকে ফেরার পথে পর্যটকবাহী একটি ট্রলারে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দল ট্রলারে থাকা মোবাইল, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে। রোববার রাতে জেলার মিঠামইন ও করিমগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী হাসানপুর ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মিঠামইন নৌ-পুলিশের উপপরিদর্শক বিদ্যুৎ সমাদ্দার বলেন, এই ঘটনাটি আমরাও শুনেছি। বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে তদন্ত করব।
মিঠামইন থানার ওসি মো. লিয়াকত আলী বলেন, এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি, তবে খবরটি পেয়েছি। এ ঘটনায় নৌ এবং টুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। আমরাও ছায়া তদন্ত করছি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা প্রায় ৪০ জন পর্যটক কিশোরগঞ্জের হাওড়াঞ্চল ঘুরে রাতে মিঠামইন থেকে একটি ট্রলারে করে বালিখলা ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
ট্রলারটি হাসানপুর ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ডাকাত দল ট্রলারে উঠে যাত্রীদের জিম্মি করে। পরে তারা যাত্রীদের মারধর করে মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নেয়।
রাজিব নামের ভুক্তভোগী একজন বলেন, সন্ধ্যায় মিঠামইন থেকে ট্রলারে উঠি। পথে আকস্মিক ঝড়ের কারণে ট্রলারটি এক জায়গায় আটকে থাকে। ঝড় থামার পর ট্রলারটি করিমগঞ্জের বালিখলা ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয়। কিন্তু পথে হাসানপুর ব্রিজ এলাকায় পৌঁছামাত্রই ডাকাত দল হামলা করে। তারা ট্রলারে থাকা নারী যাত্রীদেরও মারধর ও হেনস্থা করে মোবাইল, স্বর্ণালংকারসহ সবকিছু লুটে নেয়।
তিনি আরও বলেন, ট্রলারে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকসহ অন্তত ৪০ জন ছিলেন। সবার কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। ঘটনার পর বালিখলা ঘাটে এসে টুরিস্ট পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাই। কিন্তু টুরিস্ট পুলিশ সাহায্য না করে উল্টো ওই রাতেই মিঠামইন গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেয়। অথচ টুরিস্ট পুলিশের কাছে ট্রলারের মাঝির নাম ও মোবাইল নম্বর জমা দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের অভিযোগ, হাওড় এলাকায় পর্যটন এবং নৌপথে যাতায়াত বৃদ্ধি পেলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনও পর্যাপ্ত নয়। বিশেষ করে রাতের বেলায় নৌপথে টহল কম থাকায় ডাকাত চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি হাওড়াঞ্চলে নৌ-পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
সময়ের আলো/জেডি