নীলফামারীর সৈয়দপুরে পেট্রোল ঢেলে এক বৃদ্ধকে (৬২) হত্যাচেষ্টার ঘটনার চার দিন পর মারা গেছেন ওই বৃদ্ধ। তবে মৃত্যুর তিন দিনেও মামলা না নেওয়ার অভিযোগে মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ, থানা ঘেরাও ও সড়ক অবরোধ করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
সোমবার দুপুর ১টার দিকে মরদেহ নিয়ে খাতামধুপুর ইউনিয়ন থেকে সাত কিলোমিটার পথ বিক্ষোভ করে থানার প্রধান গেটে এসে সড়কে অবস্থান নেন তারা।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা বলেন, ঘটনার পরই উপপরিদর্শক ঋষিকেশ চন্দ্র ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত করেছেন। কিন্তু নিহতের পরিবারের লোকজন চিকিৎসার জন্য ব্যস্ত থাকায় কেউ আসতে পারেননি। এ জন্য লিখিত অভিযোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি।
রোববার তারা একটা এজাহার আনলেও তাতে কিছু ত্রুটি থাকায় সংশোধন করতে বলি। তিনি বলেন, তারা সংশোধন করতে রাজি হননি। এমনকি আমরা সংশোধন করে দিতে চাইলেও সম্মত না হওয়ায় এই বিলম্ব।
আজ সকাল ৯টায় আসার জন্য বললে তারা মরদেহ ও লোকজন নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন। বর্তমানে মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গত বুধবার ভোর ৪টার দিকে উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাচারীপাড়ায় বৃদ্ধ আফাজ উদ্দিনের শরীরে পেট্রোল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতাল থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে নেওয়া হয় ঢাকায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুর ১টার দিকে তিনি মারা যান।
আফাজ উদ্দিনের ছোট ছেলে আবু বকর সিদ্দিক বলেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে পাতা কুড়ানো নিয়ে একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝাপাড়া এলাকার আব্দুল জব্বারের ছেলে আব্দুস সালাম চঞ্চল আমার ভাইকে মারধর করে মোবাইল ভেঙে দেয়। মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে তারাগঞ্জ বাজারে আমার ভাইকে আটক করে মারধর করে। চঞ্চলসহ তার পরিবারের লোকজন আমার ভাইকে পুড়িয়ে মারতে ঘরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাক্রমে ভাই পুরোনো বাড়িতে থাকায় আমার বৃদ্ধ বাবা নৃশংসতার শিকার হয়েছেন। তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু তিন দিনেও পুলিশ মামলা নেয়নি। তা ছাড়া ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে মীমাংসা করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আমরা মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও করেছি। আমরা এই অন্যায়ের বিচার চাই।
সময়ের আলো/জেডি