চট্টগ্রামের রাউজানে দাফনের প্রস্তুতির সময় কাফনের কাপড়ে রক্তের দাগ দেখার পর মুহূর্তেই বন্ধ করা হয় জানাজা। খবর দেওয়ার পর পুলিশ এসে মরদেহ পাঠিয়ে দেয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) মর্গে।
রোববার বিকালে উপজেলার পূর্বগুজরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ননা হাজি তালুকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ওই ব্যক্তির নাম সিরাজউদ্দৌলা দুলাল। পুলিশ জানায়, মরদেহ রক্ত ছাড়াও কোপ দেওয়ার চিহ্ন দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রবাসী সিরাজউদ্দৌলা থাকতেন চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর সুন্নিয়া মাদরাসা এলাকার ভাড়া বাসায়। রোববার সকালে তার বাসায় মৃত্যু হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, চেয়ার থেকে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুরে দাফনের জন্য তার মরদেহ নিয়ে আসা হয় গ্রামের বাড়িতে।
রোববার আসরের নামাজের পর স্থানীয়দের উপস্থিতিতে জানাজার প্রস্তুতি শুরু হয়। একপর্যায়ে এলাকার লোকজন কাফনের কাপড়ে রক্তের দাগ দেখতে পায়। মুহূর্তেই পাল্টে যায় পরিস্থিতি। মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা কথা বলা শুরু করেন লোকজন। পরে দাফনের কার্যক্রম স্থগিত করে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।
রাউজান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নিজাম উদ্দিন বলেন, খবর পাওয়ার পর আমরা গ্রামের বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছি। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চমেকে পাঠানো হয়। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাউজান থানার এসআই সাদ্দাম হোসেন বলেন, রোববার রাত ৯টার দিকে মরদেহটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। মরদেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মাথায় কোপের চিহ্নও আছে। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
নিহত সিরাজউদ্দৌলার স্ত্রী জাহেদা বেগমের ভাষ্য অনুযায়ী, তার স্বামীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর দুদিন আগে তিনি চেয়ার থেকে পড়ে গিয়ে সামান্য আঘাত পেয়েছিলেন। সেই আঘাতের কারণেই তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের ভগ্নিপতি মো. ইউসুফ বাবুল বলেন, সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে পরিবারের কলহ ছিল। কলহের জেরে কিছু দিন আগে তিনি আত্মীয়ের বাসায় চলে যান। সেখানে বেশ কিছু দিন ছিলেন। পরে আবার তিনি নিজ বাসায় ফিরে যান। তার মাথায় কোপের মতো কয়েকটি চিহ্ন রয়েছে। তার মৃত্যুর সঠিক কারণ বের করে দায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে।
সময়ের আলো/জেডি