যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এইচ-১বি ভিসা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তে বড় ধাক্কা দিয়েছে আদালত। ভিসাটির ওপর আরোপিত এক লাখ ডলারের অতিরিক্ত ফি অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন এক ফেডারেল বিচারক।
সোমবার (৮ জুন) স্থানীয় সময় দেওয়া রায়ে আদালত স্পষ্ট করেছে, অভিবাসনসংক্রান্ত এমন গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন আনার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের এককভাবে নেই। এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাংবিধানিক কর্তৃত্ব কেবল কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত।
রায়ে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য বিশেষায়িত খাতে বিদেশি দক্ষ জনবল নিয়োগে এইচ-১বি ভিসা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তাই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আরও পড়ুন
মামলার শুনানিতে আদালত ফি আরোপের বিষয়টিকে কার্যত একটি নতুন কর (ট্যাক্স) হিসেবে বিবেচনা করে। বিচারক লিও সোরোকিন বলেন, প্রেসিডেন্টের কাছে এইচ-১বি ভিসার ওপর নতুন কর আরোপের কোনো বৈধ ক্ষমতা নেই।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দিয়েছিল যে, মার্কিন কোম্পানিগুলো প্রয়োজনের তুলনায় বেশি এইচ-১বি ভিসা ব্যবহার করছে। এর ফলে বিদেশি কর্মীদের সংখ্যা বাড়ছে এবং দেশীয় চাকরিপ্রার্থীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। সেই যুক্তিতেই ভিসা প্রক্রিয়াকে ব্যয়বহুল করতে এক লাখ ডলারের ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক অ্যাটর্নি জেনারেলরা আদালতের দ্বারস্থ হন। তাদের অভিযোগ ছিল, প্রশাসনের এই পদক্ষেপ অভিবাসন আইন এবং সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করেছে।
আদালতের সর্বশেষ রায় বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগে আগ্রহী মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
এএডি/