গাজায় গণহত্যায় ব্যবহার জেনেও ইসরায়েলে অস্ত্র বিক্রি করছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যায় এসব অস্ত্র ব্যবহারের উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ভারত ইসরায়েলকে

2026-07-30T22:27:51+00:00
2026-07-30T22:27:51+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬,
১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের
গাজায় গণহত্যায় ব্যবহার জেনেও ইসরায়েলে অস্ত্র বিক্রি করছে ভারত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম 
ভারতের নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (ডানে) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে আলিঙ্গন করছেন। ছবি : এএফপি
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যায় এসব অস্ত্র ব্যবহারের উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ভারত ইসরায়েলকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে ে তথ্য উঠে এসেছে। 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি জানায়, ভারত ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা খাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও লাভজনক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে। পাশাপাশি, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত সরঞ্জামের সরবরাহ ব্যবস্থারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে অ্যামনেস্টির তদন্তকারীরা ভারত থেকে ইসরায়েলে পাঠানো ২ হাজার ৫৯৬টি অস্ত্র, গোলাবারুদ, যন্ত্রাংশ ও সামরিক উপকরণের চালান বিশ্লেষণ করেছেন।  

তাদের দাবি, ভারতীয় কোম্পানিগুলো ইসরায়েলের সামরিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে অন্তত— ৩ লাখ ৯০ হাজার ৫১৬টি ছোট অস্ত্রের যন্ত্রাংশ, ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭০টি বিস্ফোরক অস্ত্রের যন্ত্রাংশ (যেমন ড্রোনের ওয়ারহেড ও কামানের গোলার খোল) এবং সামরিক যানবাহনের ২৯৮টি যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেছে। 

অ্যামনেস্টি বলেছে, তারা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের চালানের তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পেয়েছে। গবেষণার সময় যেসব চালান বেসামরিক কাজে ব্যবহার করা হতে পারে, সেগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। তারা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এইচএস কোড অনুযায়ী অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের রফতানির তথ্য বিশ্লেষণ করেছে।

এর আগে, চলতি বছর আল-জাজিরাও ২০২৪ সালে ভারত থেকে ইসরায়েলে পাঠানো অস্ত্র-সম্পর্কিত ৯১টি কাস্টমস রফতানি নথি সংগ্রহ করে। এসব নথিতে দেখা যায়, ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস, আইএমআই সিস্টেমস লিমিটেড এবং এমসিটি ম্যাটেরিয়ালসসহ ইসরায়েলের কয়েকটি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে অস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ রফতানি করেছে।   

২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) গাজায় গণহত্যা ঠেকাতে ইসরায়েলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে অন্তর্বর্তী আদেশ জারি করে। এরপর থেকে অনেক মানবাধিকার সংস্থা এবং জাতিসংঘের স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা বলে উল্লেখ করেছেন।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, এই প্রতিবেদন দেখায় যে গাজায় চলমান গণহত্যা প্রতিদিন বিশ্বের সামনে দৃশ্যমান হওয়া সত্ত্বেও ভারত ইসরায়েলের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, ভারত নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহ করছে। আন্তর্জাতিক আইন ও মানদণ্ড অনুযায়ী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অস্ত্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে ভারত ব্যর্থ হয়েছে। বরং ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়িয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।


স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপরি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইসরায়েলের মোট অস্ত্র বিক্রির ২৯ শতাংশই কিনেছে ভারত। ফলে ভারত এই সময়ে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা ক্রেতা ছিল। 

একই সময়ে ভারতের অস্ত্র আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে ইসরায়েল ছিল তৃতীয় স্থানে। ভারতের মোট অস্ত্র আমদানির ১৫ শতাংশ এসেছে ইসরায়েল থেকে। এ তালিকায় রাশিয়া ৪০ শতাংশ নিয়ে প্রথম এবং ফ্রান্স ২৯ শতাংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর ভারত ও ইসরায়েল প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করে। এর লক্ষ্য ছিল দুই দেশের সামরিক, শিল্প ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানো।  

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইসরায়েল সফরের সময় দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশ জানায়, তাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা পরিধি ও সক্ষমতা— উভয় দিক থেকেই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের জন্য একটি রূপরেখাও নির্ধারণ করা হয়েছে।  

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ২০২৪ সালের শেষ দিকে গাজায় সংঘটিত কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে একাধিকবার তার “প্রিয় বন্ধু” বলে উল্লেখ করেছেন। 


সময়ের আলো/ইউএমএইচ



  বিষয়:   অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল  গাজা  গণহত্যা  ইসরায়েল  অস্ত্র বিক্রি  ভারত 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: