দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে কদমতলী গোলচত্বর এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে মিছিল ও নাশকতার পরিকল্পনায় অভিযোগে সাবেক চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ (৫২) সহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন পুলিশ।
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই (নিরস্ত্র) মনির হোসেন রোববার (৭ জুন) সন্ত্রাস বিরোধী আইনে এই মামলাটি দায়ের করেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা সূত্রে সময়ের আলোকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন- ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আল হাসান তন্ময় (৩০), কেরানীগঞ্জ মডেল থানা মৎসজীবী লীগের সভাপতি রানা মোল্লা (৪৫), কামরাঙ্গীরচর থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক স্বপ্নিল হাসান কাজল, কেরানীগঞ্জ মডেল থানা কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনির হোসেন, জিনজিরা ইউনিয়ন যুবলীগ প্রচার সম্পাদক মো. সাইমন উদ্দিন, ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো ইয়ামিন (৪০), কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য হাবিবুর রহমান (৫৫), বাস্তা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম আহব্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম (৪৮), রিয়াদ হোসেন শাওন (৩২), কোন্ডা ইউনিয়ন শ্রমিক লীগ সাধারণ সম্পাদক ফজলু রহমান (৪৮), শুভাঢ্যা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের অন্যতম সদস্য গিয়াস উদ্দিন মাসুদ (৩৫), ০২ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাওন হোসেন (৩২) ও তেঘরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম (৩০)।
এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাতনামা অসংখ্য জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, রোববার (৭ জুন) ৬ দফা দাবি নিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে কদমতলী গোলচত্বর এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও নাশকতার পরিকল্পনায় একত্রিত হয় আসামিরা। এসময় তারা সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠক করছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আসামিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ১০টি বাঁশের লাঠি ও ২০টি ভাঙা ইটের টুকরা জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তে অন্য আসামিদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধের সত্যতা পাওয়া গেছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল আলম বলেন, দেশের পরিস্থিতি অস্থির করার জন্য আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য আদালতে কাগজপত্র পূরণ করা হয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি