ডেভিড আলাবার ক্যারিয়ার যেন সাফল্যের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। ইউরোপের দুই পরাশক্তি ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে জিতেছেন অসংখ্য শিরোপা। ক্লাব ফুটবলে অর্জনের ঝুলিতে প্রায় সবকিছুই রয়েছে তার।
তবে এতদিন একটি অপূর্ণতা ছিল- ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ। ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
৩৩ বছর বয়সি এই ডিফেন্ডার অস্ট্রিয়ার অধিনায়ক হিসেবে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে নামবেন। আর সেটিকেই নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি।
বিশ্বকাপের আগে ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলাবা বলেছেন, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল এবং সেটি বাস্তবে রূপ নিতে যাওয়ায় তিনি ভীষণ উচ্ছ্বসিত। আলাবার মতে, বিশ্বকাপ এমন একটি প্রতিযোগিতা যার অংশ হওয়ার সুযোগ পাওয়া যেকোনো ফুটবলারের জন্য বিশেষ সম্মানের।
বিশ্বকাপে খেলার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এটি আমার জন্য স্বপ্নপূরণ। ক্যারিয়ারে যা কিছু অর্জন করেছি, তার মধ্যে বিশ্বকাপ খেলা ছিল অন্যতম বড় অপূর্ণতা। তাই এই অভিজ্ঞতা আমার কাছে বিশেষ কিছু হয়ে থাকবে।
১৯৯৮ সালে সবশেষ বিশ্বকাপে খেলেছে অস্ট্রিয়া। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ২৮ বছর। ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকেট নিশ্চিত করেছে অস্ট্রিয়া। দীর্ঘ এই অপেক্ষার অবসান ঘটায় দলজুড়ে তৈরি হয়েছে অন্যরকম উচ্ছ্বাস।
বাছাইপর্বে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করার স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে আলাবা বলেন, সেই রাত ছিল আবেগে ভরা। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে সবার চোখে আনন্দ দেখেছি। আমরা জানতাম এই অর্জনের মূল্য কত বড়। শুধু খেলোয়াড় নয়, পুরো দেশের জন্যই এটি ছিল একটি বিশেষ মুহূর্ত, বলেন তিনি।
তবে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার পথ সহজ ছিল না। শেষে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও দল কখনো আত্মবিশ্বাস হারায়নি বলে জানিয়েছেন আলাবা। তার মতে, শুরু থেকেই খেলোয়াড়দের বিশ্বাস ছিল যে তারা লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে।
অস্ট্রিয়ার বর্তমান দলকে নিয়েও বেশ আশাবাদী এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার। তিনি মনে করেন, গত কয়েক বছরে দলটি অনেক পরিণত হয়েছে এবং এখন তাদের স্কোয়াডে আগের চেয়ে অনেক বেশি মানসম্পন্ন ফুটবলার রয়েছে। সেই সঙ্গে দলের ঐক্য এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াও বেড়েছে।
আলাবা বলেন, আমরা একটি শক্তিশালী দল গড়ে তুলতে পেরেছি। খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস রয়েছে, রয়েছে লড়াই করার মানসিকতা। বিশ্বকাপে সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আমরা মাঠে নামতে চাই।
ক্যারিয়ারের শেষে এসে দলের নেতৃত্ব দেওয়া নিয়েও নিজের ভাবনা জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, নেতৃত্ব মানে শুধু কথা বলা নয় বরং মাঠে পারফরম্যান্স দিয়ে অন্যদের অনুপ্রাণিত করা।
আমি সবসময় উদাহরণ তৈরি করে নেতৃত্ব দিতে পছন্দ করি। দলের জন্য দায়িত্ব নিতে চাই এবং নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে সতীর্থদের সাহায্য করার চেষ্টা করি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বও বেড়েছে, আর আমি সেই দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত, বলেন আলাবা।
বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। গ্রুপ ‘জে’তে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, আফ্রিকার শক্তিশালী দল আলজেরিয়া এবং এশিয়ার প্রতিনিধি জর্ডান। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচটি ঘিরে আগ্রহের কমতি নেই।
লিওনেল মেসির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আলাবা বলেন, এটি শুধু মেসিকে নিয়ে নয়। আর্জেন্টিনার মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে খেলা একটি বড় ব্যাপার। অবশ্যই ম্যাচটি কঠিন হবে।
তবে আমরা প্রতিপক্ষের দিকে বেশি না তাকিয়ে নিজেদের খেলায় মনোযোগ দিতে চাই। বিশ্বকাপে কতদূর যেতে পারে অস্ট্রিয়া, এমন প্রশ্নের জবাবে আলাবা সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তার মতে, এখনই শিরোপা নিয়ে ভাবার সময় নয়। তবে দলের সামর্থ্যরে ওপর তার পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে।
আমরা ইতিহাস গড়তে চাই। আমাদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ আছে কিন্তু আমরা বড় স্বপ্ন দেখতে ভয় পাই না। শেষ পর্যন্ত কী হবে, তা সময়ই বলবে। তবে আমরা তারার দিকে তাকিয়ে এগিয়ে যেতে চাই, বলেন অস্ট্রিয়ার অধিনায়ক। দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপে ফিরে অস্ট্রিয়া শুধু অংশগ্রহণ করেই সন্তুষ্ট থাকতে চায় না।
আলাবার নেতৃত্বে তারা বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়ে নতুন ইতিহাস লিখতে প্রস্তুত।
/এসএকে