মানুষের জীবনে যেমন সত্যিকারের বন্ধু থাকে, তেমনি কখনো কখনো শত্রুও তৈরি হয়। কেউ প্রকাশ্যে বিরোধিতা করে, আবার কেউ বন্ধুর মুখোশ পড়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে। এমন পরিস্থিতিতে সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় মানবীয় উদ্যোগের পাশাপাশি মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জীবনের প্রতিটি সংকট, বিপদ ও শত্রুর মোকাবিলায় আল্লাহর ওপরই সর্বাধিক ভরসা করতেন। তিনি উম্মতকে এমন কিছু দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন, যা শত্রুর অনিষ্ট, ষড়যন্ত্র ও ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য অত্যন্ত কার্যকর বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
১. শত্রুর মোকাবিলায় রাসুল (সা.)-এর বিখ্যাত দোয়া
সাহাবি হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলু (সা.) যখন কোনো শত্রুদল, গোত্র বা সম্প্রদায়ের আক্রমণ কিংবা ক্ষতির আশঙ্কা করতেন, তখন তিনি এ দোয়াটি পড়তেন—‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাজআলুকা ফি নুহুরিহিম, ওয়া নাউজুবিকা মিং শুরুরিহিম।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমরা তাদের মোকাবিলায় তোমারই সাহায্য কামনা করছি। তুমি তাদের প্রতিহত করো এবং তাদের অনিষ্ট থেকে আমাদের রক্ষা করো।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১৫৩৭)
২. আল্লাহর ওপর পূর্ণ নির্ভরতার দোয়া
শত্রুর কূটচাল, ভয় বা যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী দোয়াটি পাঠ করতেন, ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল।’
অর্থ: ‘আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, আর তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৫৬৩)
৩. শত্রুর চক্রান্ত নস্যাৎ করার দোয়া
শত্রুর শক্তি ও ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ করে দেওয়ার জন্য হাদিসে আরও একটি বিশেষ দোয়ার উল্লেখ পাওয়া যায়। রাসুল (সা.) এ দোয়াটি পড়তেন—‘আল্লাহুম্মা মুনযিলাল কিতাব, সারিয়াল হিসাব; মুজরিয়াস সাহাব, হাযিমাল আহযাব। আহযিমহুম ওয়া যালযিলহুম।’
অর্থ: ‘হে কিতাব অবতীর্ণকারী, দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী এবং মেঘমালা পরিচালনাকারী আল্লাহ! শত্রুবাহিনীকে পরাজিত করো, তাদের শক্তি ভেঙে দাও এবং তাদের মধ্যে ভীতি ও কম্পন সৃষ্টি করে দাও।’(আল-মুজামুল কাবির, তাবরানি : ৯৮৯)
শত্রুর ষড়যন্ত্র, অন্যায় আক্রমণ কিংবা যেকোনো ধরনের অনিষ্টের মুখে একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা। তাই প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি এসব দোয়া নিয়মিত পাঠ করলে মহান আল্লাহর রহমত ও সুরক্ষা লাভের আশা করা যায়। কারণ তিনিই সর্বশক্তিমান, আর তাঁর ইচ্ছা ছাড়া কারও পক্ষে কারও ক্ষতি করা সম্ভব নয়।
/এসএকে