কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনার পর থেকে ঢাকা ও কুড়িগ্রামগামী সকল বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে উপজেলার আন্ধারীঝাড় এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় একজন ব্যক্তি আহত হন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা ঢাকাগামী ‘স্বাধীন পরিবহন’-এর একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়।
বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে বাসমালিক নূরে আলম সিদ্দিকী মুকুট বাদী হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কুড়িগ্রাম বাস মালিক সমিতি ও উত্তর ধরলা বাস মালিক সমিতি ভূরুঙ্গামারীর সঙ্গে সব ধরনের বাস যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। ফলে ঢাকাগামী যাত্রীদের কুড়িগ্রাম জেলা সদরে গিয়ে বাসে উঠতে হচ্ছে। একইভাবে কুড়িগ্রামগামী যাত্রীদেরও অটোরিকশাসহ বিকল্প যানবাহনে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
ভোগান্তির শিকার যাত্রী মাহাদী ইমাম, মাহজুবাহ হক ও আলেফ উদ্দিন জানান, তারা ঢাকাগামী নাইট কোচের টিকিট সংগ্রহ করলেও কাউন্টার থেকে জানানো হয়েছে, বাস আর ভূরুঙ্গামারীতে আসবে না। তাদের কুড়িগ্রাম গিয়ে বাসে উঠতে হবে। ব্যাগ-বস্তা ও মালামাল নিয়ে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়াকে তারা অত্যন্ত কষ্টকর বলে জানান।
কুড়িগ্রাম বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন বলেন, বাস ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবহন শ্রমিক ও যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে পুনরায় বাস চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন জানান, বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাস চলাচল স্বাভাবিক করতে বাস মালিক সমিতির সঙ্গে প্রশাসনের নিয়মিত যোগাযোগ চলছে।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ বলেন, বিষয়টি নিয়ে উত্তর ধরলা মোটর মালিক সমিতির সম্পাদক স্বপন কুমার সাহার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন বলে জানিয়েছেন। প্রশাসন দ্রুত সমস্যার সমাধানে কাজ করছে।
/এসএকে