মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলার নেপথ্যে মূলত দুই পক্ষেরই ‘আরও ভালো একটি চুক্তি’র জন্য নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার কৌশল কাজ করছে। ঝুঁকি বিশ্লেষক তর্বিওর্ন সল্টভেটের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি ‘ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি’ এবং দুই দেশের মধ্যকার ‘কম মাত্রার সংঘাত’ শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতিকে চরম চাপের মুখে ফেলেছে।
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সল্টভেট বলেন, গত কয়েক দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে আরও তীব্র ও ভয়াবহ সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, পর্দার আড়ালে আলোচনা ও সমঝোতার প্রক্রিয়া সচল থাকলেও বর্তমানে মূল সমস্যা হলো— উভয় পক্ষই নিজেদের শক্তিশালী অবস্থানে রেখে আলোচনা এগিয়ে নিতে চাইছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন মনে করছে ইরানের ওপর সামরিক ও রাজনৈতিক ‘চাপ আরও বাড়িয়ে’ দিলে তারা সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে দরকষাকষি করতে পারবে এবং একটু সময় নিলে আরও শক্তিশালী অবস্থান থেকে চুক্তি করা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে, তেহরানের কৌশলও বেশ স্পষ্ট। ইরান মনে করছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমূজ প্রণালী’ দিয়ে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহন অবরুদ্ধ বা বাধাগ্রস্ত করতে পারলে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করবে। আর এই অর্থনৈতিক চাপকে হাতিয়ার করেই তারা নিজেদের জন্য আরও লাভজনক ও বড় কোনো চুক্তির আশায় ‘ধৈর্য ধরে টিকে থাকার’ নীতি গ্রহণ করেছে।
সল্টভেট জানান, ইরানের এই কৌশল ইতিমধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে, কারণ বহু দেশ এই সংঘাতের অর্থনৈতিক ধাক্কা টের পাচ্ছে। এমনকি এর প্রভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি (ইনফ্লেশন) গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কোনো আনুষ্ঠানিক এবং স্থায়ী চুক্তি স্বাক্ষরিত না হলে এই চরম অস্থিতিশীল পরিবেশ যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
/কহু