মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের পরও শেরপুরের নাকুগাঁও স্থলবন্দরে লোড-আনলোড কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ব্যবসায়ীদের অঘোষিত সিদ্ধান্তে শুক্রবারও বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়নি। ফলে দ্বিতীয় দিনের মতো অচলাবস্থা বিরাজ করছে জেলার একমাত্র স্থলবন্দরটিতে।
জানা গেছে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে মজুরি বৃদ্ধিসহ কয়েকটি দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে আসছিল নাকুগাঁও স্থলবন্দরের লোড-আনলোড শ্রমিক ইউনিয়ন। প্রথমে মৌখিকভাবে এবং পরে লিখিতভাবে একাধিকবার দাবি জানানো হলেও সাড়া না পেয়ে গত ৮ জুন তৃতীয় দফায় চিঠি দেয় শ্রমিক ইউনিয়ন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সমাধান না হওয়ায় বৃহস্পতিবার কর্মবিরতিতে যান শ্রমিকরা।
কর্মবিরতির দিন দুপুরে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে আমদানি-রফতানিকারক সমিতির কার্যালয়ে ব্যবসায়ী ও শ্রমিক নেতাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে আলোচনার একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে বৈঠকটি পণ্ড হয়ে যায়। এ সময় শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তোলে। শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, আলোচনায় ডেকে নিয়ে ব্যবসায়ী নেতারা তাদের ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যা দিয়ে অপমান করেছেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, শ্রমিকরা আমদানিকারক আরিফুল ইসলাম লিটনের ওপর হামলা চালিয়েছেন।
পরিস্থিতির অবনতি হলে শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ফাহিম চৌধুরী মোবাইল ফোনে উভয় পক্ষের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বিষয়টির সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিতের পরামর্শ দেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে শুক্রবার থেকে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে শ্রমিকরা।
তবে একজন আমদানিকারককে হেনস্তার অভিযোগে ব্যবসায়ীরা অঘোষিতভাবে লোড-আনলোড কার্যক্রম বন্ধ রাখেন বলে জানা গেছে। ফলে শ্রমিকরা কাজে ফিরলেও বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়নি।
নাকুগাঁও লোড-আনলোড শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল ছামাদ বলেন, সংসদ সদস্যের অনুরোধে আমরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছি। কিন্তু আমদানি-রফতানিকারকরা লোড-আনলোড বন্ধ রেখেছেন। ফলে শুক্রবারও বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। যেহেতু এমপি মহোদয় বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব নিয়েছেন, সেহেতু ব্যবসায়ীদেরও তার আহ্বান মেনে চলা উচিত ছিল।
এ বিষয়ে নাকুগাঁও আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, বন্দরের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি।
তবে তিনি অঘোষিতভাবে লোড-আনলোড কার্যক্রম বন্ধ থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন।
বন্দর সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত সমাধান না হলে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে আরও জটিলতা তৈরি হতে পারে এবং ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি শ্রমিকরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
আরবিএন